
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
শান্তিনিকেতন সংলগ্ন মোলডাঙায় ৫ বছরের একটি শিশু নিখোঁজ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় রবিবার থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর, সকাল ৯টা ৪০মিনিট নাগাদ মায়ের কাছ বাড়ীর পাশের একটি দোকান থেকে ৫ টাকা নিয়ে বিস্কুট কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিবম ঠাকুর নামে শিশুটি। ইতিমধ্যে ঐদিন রাত্রে পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। বাড়ী বাড়ী শিশুটির খোঁজে নামেন ডিএসপি হেড কোয়ার্টার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বোলপুর, নানুর সার্কেল ইন্সপেক্টর সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকেরা। ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবার সহ প্রশাসন মহল। আশঙ্কাই সত্যি হয়ে উঠলো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবারের কাছে মঙ্গলবার। এ যেন বাগুইআটির ছায়া বোলপুরের শান্তিনিকেতনে। শিশু নিখোঁজের জেরে পুলিশ তৎপর হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীর ছাদ থেকে উদ্ধার করে শিশুটির দেহ মৃত অবস্থায়। প্রায় বাহান্ন ঘন্টা পর শিশুর দেহের খোঁজ পাওয়ার পর তুমুল অশান্তি বাঁধে শান্তিনিকেতনের মোলডাঙ্গা গ্রামে। উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে এবং ভাঙচুর করে অভিযুক্তের বাড়ি। ঘর থেকে আসবাবপত্র বাইরে টেনে বার করে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। অশান্তি থামাতে নামানো হয় RAF। ২০ সেপ্টেম্বর বেলার দিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে শিশুটির বাড়ির আশেপাশে। দুপুর গড়াতেই রুবি বিবি (২৮) প্রতিবেশীর ছাদে মেলে শিশুটির পচাগলা মৃতদেহ। এই খবর ছড়াতেই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশ এসে পৌঁছলেও ক্ষুব্ধ জনতাকে বাগে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। পুরনো শত্রুতা এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই শিশু খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। সবশেষে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন দিন পুলিশের কঠোর বিধি নিষেধ থাকবে গোটা এলাকা জুড়ে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রুবি বিবি এবং তার দিদাকে।