
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী দ্বন্দের চিত্র তত বেশি প্রকট হয়ে উঠছে। সেরূপ বৃহস্পতিবার বীরভূমের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকে ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্ধের চিত্র প্রকাশ্যে এসে পড়লো। তাও আবার বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শতাব্দী রায়ের সম্মুখে। জানা যায় এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের এসআইআর সহায়তা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসার মুহূর্তে দলীয় কর্মীদের ঝামেলার মাঝে পড়ে যান। যার ফলে আটকে পড়ে সাংসদের গাড়ি। সাংসদের উপস্থিতিতেই তথা গাড়ির সামনেই তৃণমূলের দুই পক্ষের কর্মীরা একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় কিল-চড়-ঘুষি এবং ধস্তাধস্তি। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় সাংসদ কার্যত ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় এবং তাদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করেন সংঘর্ষের দৃশ্য। স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকা উত্তপ্ত হতেই বলরাম বাগ্দীকে সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে তুলে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। যদিও দলীয় এক মহিলাকে শতাব্দীর গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। অন্যরা সরানোর চেষ্টা করে কিন্তু তথাপি বারবার গাড়ি সামনে শুয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে বাধা দেয়। হামলার সময় বলরামের ভাইও আক্রান্ত হয় বলে খবর। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সিউড়ি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে। উল্লেখ্য জেলার বুকে একদা ব্লক ভিত্তিক দলীয় কর্মসূচি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন অনুব্রত মণ্ডল সিউড়ি দুই নম্বর ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের সঙ্গে এই ব্লক দিয়ে শুভসূচনা করতেন। কিন্তু সেটা এখন অতীত। এমনকি অনুব্রত মণ্ডল এবং নুরুল ইসলাম আড়াআড়িভাবে পথ চলাও শুরু করে। যা পরোক্ষে যুযুধান অনুব্রত কাজল দুই গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে সিউড়ি দুই নম্বর ব্লক এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী দ্বন্ধের খবর। এদিন ফের সাংসদ শতাব্দী রায় তৃণমূল কংগ্রেসের এস আই আর সহায়তা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময়ই ঘটে দলীয় কর্মীদের মধ্যে সংঘাত। প্রশ্ন উঠেছে—অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদীকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বলরাম অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত, আর সেই কারণেই গোষ্ঠীগত সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। তাঁদের বক্তব্য, বড় পরিবারের মতোই সামান্য অশান্তি হয়েছে। যা এখন মিটে গিয়েছে বলেদাবি করেন । অন্যদিকে সাংসদ শতাব্দী রায় অভিযোগের সুর সিপিএম-বিজেপির দিকে। তাঁর বক্তব্য, যিনি মারধর করেছেন তিনি নাকি সিপিএমের বিএলএ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই ব্যক্তি কীভাবে তৃণমূল কর্মীদের ভিড়ে মিশলেন। তাঁর কথায়, ওই লোকেরা ‘আধা সিপিএম’, তাই এরকম পরিস্থিতি হওয়াই স্বাভাবিক। তবে সাংসদ স্বীকারও করেন যে দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে এবং থাকবেও, আর বাইরের লোকজন মিশে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
কিছুদিন আগেই এই অঞ্চলে দুই শিবিরের সংঘর্ষে ব্যাপক ভাঙচুর, উত্তেজনা এবং বড় পুলিশ বাহিনী নামানোর ঘটনা ঘটেছিল। অনুব্রত বনাম কাজল অনুগামীদের কোন্দল মেটাতে শীর্ষ নেতৃত্ব হস্তক্ষেপও করেছিল। তবুও পরিস্থিতি সামলে ওঠার আগেই ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

