শম্ভুনাথ সেন ও সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
বীরভূমের বৈষ্ণবভূমি জয়দেব-কেন্দুলিতে মহাসমারোহে উদযাপিত হলো বসন্ত উৎসব
বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলির বৈষ্ণবভূমিতে উৎসাহ ও উদ্দীপনায় উদযাপিত হলো বসন্ত উৎসব। ৩ মার্চ, মঙ্গলবার ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব কেন্দুলি গ্রীন স্টার কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত বসন্ত উৎসব এবার তৃতীয় বছরে পদার্পণ করে। জয়দেব কেন্দুলী বাউল মঞ্চে আয়োজিত উৎসবে ৮ থেকে ৮০ সকল স্তরের উৎসাহী মানুষজন এদিন উৎসবে সামিল হয়। প্রভাত ফেরির মাধ্যমে শুভ সূচনা হয় বসন্ত উৎসবের। কচিকাঁচাদের কে নিয়ে জয়দেব রাধাবিনোদ মন্দির থেকে প্রভাতফেরী পরিক্রমা করার পর বাউল মঞ্চে এসে বিভিন্ন নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়। কচি – কাঁচারা মেতে উঠে এ আনন্দ উৎসবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃত্রিম রঙের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বসন্ত উৎসবের দিন বিশৃঙ্খলা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জয়দেব কেন্দুলি পুলিশ ফাঁড়ির আই সি সৌমিত্র সুকুলের নেতৃত্বে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি।
মহিলা পরিচালিত সেঁজুতির পরিচালনায় বসন্ত উৎসব, দুবরাজপুরে
দোল যাত্রা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার সকাল থেকে সাজো সাজো রব। রঙিন সাজে সজ্জিত হয়ে নানান রঙ বেরঙের আবির নিয়ে শোভাযাত্রা সহ একে অপরকে রাঙিয়ে তোলে। এছাড়াও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এমনকি কোথাও কোথাও মেলাও বসে। সেরূপ দুবরাজপুর শহরের মহিলা পরিচালিত সেঁজুতি নাট্যগোষ্ঠীর উদ্যোগে দোল যাত্রা উপলক্ষে সান্ধ্যকালীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুবরাজপুর পাহাড়েশ্বর শিব মন্দির প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে।

দুবরাজপুরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন এদিন বসন্ত উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে। অনুষ্ঠানের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বোলপুর চতুরঙ্গের ঢালি নাচ, শাড়ি নাচ এবং সর্বোপরি ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাইবেঁশে মানুষের মন জয় করে। লুপ্তপ্রায় রাইবেঁশে নাচ চাক্ষুষ করল এলাকাবাসী। উল্লেখ্য সংস্কৃতি মনোভাবাপন্ন সেঁজুতির কর্ণধার সুমনা চক্রবর্তী দুবরাজপুরের মানুষকে প্রতিনিয়তই সংস্কৃতির ছোঁয়ায় রাঙিয়ে তোলেন বলে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন। মহিলা পরিচালিত সেঁজুতি বসন্ত উৎসব শুরু হবার আগেই পাহাড়েশ্বর শিব মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জলন করেন, বীরভূম জেলার সরকারি আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায়, দুবরাজপুর পৌরপ্রধান পীযূষ পান্ডে, শিক্ষক অরিন্দম চ্যাটার্জী, দুবরাজপুর আশ্রমের শীর্ষ সেবক সত্য শিবানন্দ মহারাজ, মানিক মুখার্জি, বিশিষ্ট আইনজীবী স্বরূপ আচার্য, কাউন্সিলার সাগর কুন্ডু প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সেঁজুতির কর্মকর্তা সুমনা চক্রবর্তী উপস্থিত অতিথিদের বরণ করেন আবিরের ছোঁয়া এবং গোলাপ ফুল দিয়ে। বিশেষ উল্লেখ্য এদিন অনুষ্ঠানে বোলপুর চতুরঙ্গর ঢালি ও শাড়ি নাচ এবং রোদ্দুর গোষ্ঠীর গানের পাশাপাশি সেঁজুতির নিজস্ব গান নৃত্য, মায়া সঙ্গীত কলার গান ও পরিবেশিত হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।


দোল উপলক্ষে নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুবরাজপুরের যশপুর গ্রামে
“ধর্ম হোক যার যার বাবা ঢেকুরেশ্বরের দোল উৎসব সবার”-হ্যাঁ, সেই বার্তা কে সামনে রেখে দুবরাজপুর ব্লকের যশপুর গ্রাম বাসিবৃন্দের পরিচালনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বাবা ঢেকুরেশ্বর শিব মন্দির প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে পালিত হল দোল উৎসব। এদিন সকাল থেকেই ৮ থেকে ৮০ সকল বয়সের লোকজন মেতে উঠেন দোল উৎসবের মহাসমারোহে। সকাল থেকে শুরু হয় নাম সংকীর্তন। দুপুরে প্রায় ৪০০০ ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদ এর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় কীর্তন গান পরিবেশন করেন কীর্তনীয়া তিথি ভট্টাচার্য। যশপুর গ্ৰামবাসীবৃন্দ এবং সকল ভক্তদের সহযোগিতায় এই অতি প্রাচীন দোল উৎসব পালিত হয়ে আসছে বলে আয়োজকরা জানান।

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে মেলা ও ২১ ফুটের রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি লোকপুরে
জেলার বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে রঙের উৎসব হোলি তথা বসন্ত উৎসব। একে অপরকে রঙে রাঙিয়ে দিতে শোভাযাত্রা সহ চলছে নানান কর্মসূচি। অনুরূপ খয়রাসোল ব্লকের লোকপুর নীচে পাড়ায় শ্রী শ্রী কৃষ্ণের হোলি, দোলযাত্রা উপলক্ষে বসেছে পাঁচ দিনের মেলা। এবারে মেলার বিশেষ আকর্ষণ ২১ ফুটের রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রসেনজিৎ দাস এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, এই মেলা এবছর ৩২ বছরে পদার্পণ করলো। ভিক্ষায় আমাদের সম্বল। জুনিয়র সিনিয়র যুবকদের মিলিত প্রয়াসে এই মেলার আয়োজন করে থাকি। মেলায় নাগরদোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসে। পাশাপাশি পাঁচ দিন ধরে কীর্তন গান, বাউল গান সহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এলাকার সমস্ত মানুষের সহযোগিতায় মেলা জমজমাট হয়ে ওঠে এবং বেশ আনন্দ উপভোগ করেন এলাকাবাসী।

