নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ
বীরভূমের সিউড়ির ড. সুভোধ সাহা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দশম শ্রেণির ছাত্র মৈনাক দাস (১৬)-এর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ রাতে মৈনাকের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকার বহু মানুষ হাতে মোমবাতি নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি নীরব মিছিল বের করেন।
মিছিলটি মৈনাকের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মৈনাকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং “মৈনাকের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চাই”, “দোষীদের শাস্তি চাই” ও “ন্যায়বিচার চাই”—এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাকালীন একটি ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৈনাকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁদের দাবি, চিকিৎসায় গুরুতর গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও প্রশাসন।
ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে ড. সুভোধ সাহা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, একজন কিশোর ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু গোটা এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই শুধুমাত্র মৈনাকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই নয়, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই দাবিতেই তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোমবাতি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
