রাসায়নিক সার ও আনাজ বাজারে পুলিশ ও ব্লক কৃষি দফতরের যৌথ অভিযান, নজরে লাইসেন্স, মজুত ও পণ্যের গুণগত মান

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

বর্ষার মরশুমে জোরকদমে চলছে কৃষিকাজ। এই সময়ে রাসায়নিক সারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য কালোবাজারি, অতিরিক্ত দাম আদায় কিংবা অনিয়ম রুখতে রবিবার লোকপুর থানার ওসি সায়ন্তন ব্যানার্জির উদ্যোগে স্থানীয় লোকপুর বাজারে লোকপুর থানার পুলিশ ও ব্লক কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন সার বিক্রেতাদের দোকানে গিয়ে লাইসেন্স, সার ক্রয়-বিক্রয়ের চালান, স্টক রেজিস্টার, মজুতের পরিমাণ, পণ্যের মূল্য ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি কৃষকদের নির্ধারিত মূল্যে মানসম্মত সার সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করা হয়।
শুধু সারের দোকানেই নয়, এদিন বাজারের আনাজ ও সবজি বিক্রেতাদের দোকানেও অভিযান চালানো হয়। পচা বা নিম্নমানের সবজি বিক্রি, ওজনে কারচুপি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, বাজারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রাস্তায় আবর্জনা না ফেলার বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও নিয়মিত চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন লোকপুর থানার এএসআই নয়ন ঘোষ, খয়রাসোল ব্লক কৃষি দফতরের এএফএম সব্যসাচী সরকার, এটিএম সুমন ঘোষ এবং লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তাপস দাস-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
লোকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তাপস দাস বলেন, “বাজারে রাসায়নিক সার ও আনাজের গুণগত মান, নির্ধারিত মূল্য, সঠিক ওজন, প্যাকেটজাতকরণ এবং ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স-সহ বিভিন্ন বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতে কোনওভাবে প্রতারিত না হন এবং কালোবাজারির সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনও ধরনের সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে দ্রুত স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।” প্রশাসনের এই উদ্যোগে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং কৃষক ও সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *