
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাট তিন মহকুমার শিক্ষা বিভাগের সরকারি অফিস সহ প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (ABTA) এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের উদ্যোগে জেলা জুড়ে কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এর নির্দেশ অনুযায়ী অবিলম্বে বকেয়া DA দেওয়ার দাবি সহ শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা, বিদ্যালয় স্তরে পরিকাঠামো উন্নয়ন এমন একাধিক দাবিকে সামনে রেখে বীরভূম জেলা জুড়ে ১৩ মার্চ কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল ও ধর্মঘটে সামিল হয় সংগঠনের সদস্যরা। এই কর্মসূচিতে সামিল হওয়ায় জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। আসলে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই ধর্মঘট। স্বচ্ছ ও দ্রুততার সঙ্গে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়নের দাবি। পঠন-পাঠন ছাড়াও শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন অ-শিক্ষকসুলভ কাজের প্রতিবাদ জানানো হয় এদিন। ১৩ মার্চ সকাল থেকেই বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় এই আন্দোলনের প্রভাব দেখা গেছে। সদর সিউড়ির স্কুলগুলিতে পিকেটিং করা হয় পরে বেলা এগারোটা থেকে একটি মিছিল সারা সিউড়ি শহর পরিক্রমা করে। বীরভূম জেলা এবিটির সভাপতি তথা শিক্ষক আশিস বিশ্বাস, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সভাপতি আশরাফ আলী, সৌমেন চ্যাটার্জী প্রমুখ ব্যক্তিত্ব এই প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এদিন অনেক স্কুল খোলা থাকলেও পঠন-পাঠন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অধিকাংশ শিক্ষক স্কুলে এলেও কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানান।

রামপুরহাটে বেশ কিছু স্কুলে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। রাস্তায় মিছিল হয়েছে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সচল রাখা সরকারের অগ্রাধিকার। শিক্ষকদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্কুলগুলোর সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বীরভূমে এই শিক্ষক আন্দোলন মূলত রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। দিনশেষে কত শতাংশ শিক্ষক কর্মবিরতিতে সামিল হলেন, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার এই অচলাবস্থা কাটবে কবে! এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষজনও।
