নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ
হিরোশিমা, জাপান — ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান এনোলা গে হিরোশিমায় “লিটল বয়” নামক প্রথম পারমাণবিক বোমা ছুড়ে দেয়, যার তীব্র বিস্ফোরণ এখন পর্যন্ত মানব ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধকালীন ঘটনা হিসেবে স্মরণীয়। এতে মাত্র কয়েক মুহূর্তে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং পরবর্তী বছরগুলোতে কোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয় — গরম ধাতুর তাপ, বিস্ফোরণ ও পারমাণবিক বিকিরণে উপজীব্য অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটে।
আজ, ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও হিরোশিমা ও নাগাসাকি পরিস্থিতি শুধু ইতিহাস নয় — বিশ্ব রাজনীতিতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও উত্তেজনার প্রতীক। শীতল যুদ্ধের পর পারমাণবিক শস্ত্রভাণ্ডার কয়েকটি রাষ্ট্রে বৃদ্ধি পেয়ে আজ প্রায় দশটি দেশ প্রায় ১২,৪০০ এর মতো যুদ্ধাস্ত্র ধারণ করছে, যা ১৯৪৫ সালের বোমার তুলনায় গুণমান ও পরিমাণে অনেক বেশি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রশক্তি আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যেমন ভারত-পাক সীমান্ত, উত্তর কোরিয়া-মার্কিন ইস্যু ও ইরান-পশ্চিমের আলোচনায় নতুন বিপদের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তখনকার শাস্ত্রিক প্রয়োগের ভয়াবহ ফলাফল আজও স্মৃতিতে অম্লান। হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্ক এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি নীতির পক্ষপাতীরা বারবার মনে করিয়ে দেন — পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা মানবজাতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে, এবং সন্ত্রাস, ভুল হিসাব বা নিরর্থক উত্তেজনা এমন বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে যা ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি।
বিশ্ব নেতাদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে, এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র রোধ ও শান্তি নীতি আরো দৃঢ় করতে হবে, যাতে কখনো আর এমন কোলাহল আর মানবিক দুর্বিষহতা বিশ্ব দেখে না।
