
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
এসআইআর এর কবলে বহু ভোটারের নাম বিচারাধীন বলে ঝুলে ছিল। পরবর্তীতে কিছু নাম সংযোজন হলেও অনেকের নাম বিয়োজনের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় জনমানসে দুশ্চিন্তার রেখা বেড়ে চলেছে। বিয়োজনের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের এবার ট্রাইব্যুনালের আওতায় যেতে হবে নাগরিকত্ব প্রমাণ তথা ভোটার তালিকায় নাম তোলার লক্ষ্যে। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত গ্রামের মধ্যে চলছে এনিয়েই চর্চা। অনেক গ্রামে একতাবদ্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। কখনো আবার ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি। কোথাও আবার গ্রামের মধ্যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রচার কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে পোস্টার পড়তে দেখা যায়। সেরূপ বীরভূমের রাজনগর ব্লকের একাধিক গ্রামে ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। এর জেরে ভবানীপুর অঞ্চলের কানমোড়া রাজনগর পঞ্চায়েতের আড়ালি, রমজুপাড়া ও খোদাইবাগ এই চারটি গ্রামে ৯৫৭ জনের নাম বাদ গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভোট বয়কটের পাশাপাশি সমস্ত রাজনৈতিক প্রচার বন্ধেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। কানমোড়া গ্রামে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রায় ১০৩ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে জানান, এই পরিস্থিতিতে তারা গভীর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়েছেন। আড়ালি গ্রামেও একই ছবি ফুটে ওঠে। সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করে গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গ্রামের কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতাকে প্রচারে ঢুকতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় বিএলও মৃত্যুঞ্জয় দে জানান, মোট ৪৪৫ জনের নাম বিচারাধীন ছিল, যার মধ্যে ৩৫৯ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
রমজুপাড়া গ্রামে ৩৩০ জনের নাম বিচারাধীন তালিকায় থাকলেও, বিএলও নয়ন ইন্দ্রের কথায়, এর মধ্যে ১৮৯ জনের নাম বাদ গেছে এবং ৭৯ জনের নাম এখনও পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে গ্রামবাসীরা বৈঠক করে ভোট বয়কট ও রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনুরূপ খোদাইবাগ গ্রামেও ৩৭৭ জনের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল, বিএলও সরফরাজ খান জানিয়েছেন এই ৩৭৭ জনের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। গ্রামে জরুরি বৈঠক ডেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বাদ পড়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা প্রদান করবে।
ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে যখন আড়ালি গ্রামের বাসিন্দা তথা ২০ নম্বর অংশের বিএলও সাহাদাত আলী খানের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ে। তিনি বলেন, “গত চার মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি, অথচ আমারই নাম বাদ পড়ল—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” এই পরিস্থিতিতে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শিবির আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। যেখানে বাতিল হওয়া ভোটারদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

