
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
হারভেস্টার মেশিনের চাকায় জমির কাদা মাটি লেগে পাকা রাস্তার উপর চলাচলের ফলে পাকা রাস্তাটি কাদা রাস্তায় পরিনত হয়েছে। যারফলে পথচারী সহ যান চলাচল করতে সমস্যা। সেই প্রেক্ষিতে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে রাস্তার সংস্কারের জন্য। জানা যায় ময়ূরেশ্বর ক্যানেল অফিস মোড় থেকে কামরাঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিচ রাস্তার উপর এখন কাদামাটির স্তূপ। এটি পাকা রাস্তা নাকি ধানের জমি বুঝতে পারা মুস্কিল। সেই রাস্তার উপর চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এই রাস্তা দিয়ে কালিকাপুর ব্রাহ্মণবহড়া সহ বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীদের নাজেহাল অবস্থায় মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।রাস্তার উপর জমে থাকা কাদা বৃষ্টির জলে পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে যাওয়ায় আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে, যার জেরে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উল্লেখ্য ময়ূরেশ্বরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে বোরো ধান কাটার কাজ চলছে। কালবৈশাখী ও বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে কৃষকেরা মাঠে হারভেস্টার মেশিন নামিয়েছেন। মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটার পর সেই ধান ট্রাক্টরে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে সমস্যা। ধানের জমির ভেজা কাদামাটি ট্রাক্টরের চাকায় লেগে সরাসরি পিচ রাস্তার উপর উঠে আসছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় মোটা কাদার চাঁই পড়ে থাকছে। পরে বৃষ্টি হলে সেই কাদা গলে পুরো রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ছে এবং রাস্তা কার্যত মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মোটরবাইক, সাইকেল এমনকি ছোট চারচাকা গাড়িও এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যায় পড়ছে। প্রায়ই বাইক পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে এই রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। কারণ রাস্তার উপর কোথায় কাদা জমে রয়েছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে যেকোনো সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই ট্রাক্টর মালিক ও চালকদের সতর্ক করা হয়েছিল। ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে জানানো হয়েছিল, যেন জমির কাদামাটি রাস্তার উপর না ফেলা হয়। প্রয়োজনে রাস্তা ব্যবহার করার আগে ট্রাক্টরের চাকা পরিষ্কার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলেই অভিযোগ। কার্যত প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তার উপর কাদা ফেলেই চলেছে ট্রাক্টর ও হারভেস্টার মেশিন, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
