
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
সাধারণত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলবদলের ঘটনা বেশি দেখা যায়। তবে নির্বাচনের পর কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের অন্য দলে যোগদানের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। সেই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বীরভূম জেলার খয়রাসোল ব্লকের পাঁচড়া অঞ্চলের ইদিলপুর, পুরশুন্ডা-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার ইদিলপুর গ্রামে আয়োজিত এক প্রকাশ্য সভায় বহু মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। উল্লেখ্য, পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে বিভিন্ন মহলের পর্যবেক্ষণ।
এদিন যাঁরা কংগ্রেসে যোগদান করেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন কালিয়া ডোম, সঞ্জয় ডোম, রাজীব শা, আনসার শা, শেখ আজিমুদ্দিন, শামীম মণ্ডল, মির আল্লারাক্ষা-সহ আরও অনেকে, যাঁরা দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক বা কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নবাগত সদস্যদের হাতে জাতীয় কংগ্রেসের দলীয় পতাকা তুলে দেন বীরভূম জেলা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান আব্দুল নঈম এবং খয়রাসোল ব্লক কংগ্রেস সভাপতি জাকির খান। সভায় উপস্থিত কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, পাঁচড়া অঞ্চলজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কংগ্রেসের শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
সভায় জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব সঞ্জয় অধিকারী ও অভিজিৎ মুখার্জির বক্তব্যও ফোন কলের মাধ্যমে স্পিকারে সম্প্রচার করা হয়। তাঁরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং আগামী দিনে সাধারণ মানুষের স্বার্থে আন্দোলন জোরদার করার বার্তা দেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত হতেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের দলে যোগদানের প্রবণতা বেড়েছে। এর আগে ইলামবাজার, পাড়ুই, রামপুরহাট ও নলহাটি-সহ বিভিন্ন থানা এলাকায় আয়োজিত যোগদান কর্মসূচিতেও উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে বলে তাঁদের দাবি। এই যোগদান কর্মসূচিকে ঘিরে পাঁচড়া অঞ্চলে রাজনৈতিক চর্চা তীব্র হয়েছে। আগামী দিনে এর প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
