মৃত্যুকে জয় করে কলমের শক্তিতে অদম্য বীরভূমের দাবির হোসেন

শম্ভুনাথ সেনঃ

দুরারোগ্য ব্যাধি আর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেও যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে জীবনকে জয় করা যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকের কয়রা গ্রামের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী মহম্মদ দবির হোসেন। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এই মানুষটি গত চার বছর ধরে এক বিরল মারণ ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ১১ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে বাসা বাঁধে এমন মারণ রোগ। বর্তমানে ৬০ শতাংশ শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে শয্যাশায়ী দাবির বাবু।
একদিকে চিকিৎসার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, অন্যদিকে দুই নাবালক সন্তানের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই দুই কঠিন বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়েও দাবিরবাবু হার মানেননি। যন্ত্রণাদায়ক রোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত পাঞ্জা লড়েও থামেনি তাঁর কলম। বরং বিছানায় শুয়েই তিনি সৃষ্টি করে চলেছেন একের পর এক কালজয়ী সাহিত্য। তাঁর এই অসামান্য সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি ‘নেপাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ এবং ঐ বৎসরেই গৌরব রত্ন রৌপ্য পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন। আগেই বহু গ্রন্থ এবং তাঁর লেখা নানান পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি পাঠকদের জন্য তাঁর তিনটি গ্রন্থ—উপন্যাস ‘শিক্ষিত ভিখারির স্বপ্ন ভাঙা সিঁড়ি’, ‘ভাঙা বিশ্বাস’ এবং কবিতার বই ‘দিগন্তে নিরুপমা’ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বইগুলো কেবল ছাপার অক্ষরে লেখা গল্প নয়, বরং দাবির হোসেনের জীবনযুদ্ধের জীবন্ত মহাকাব্য। তীব্র শারীরিক কষ্টকে উপেক্ষা করে তাঁর এই সৃষ্টিশীলতা আজ বহু মানুষের কাছে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। জীবনের কঠিনতম সময়েও যে মনের জোরে জয়ী হওয়া যায়, দাবির হোসেন তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। সমাজের বিবেকবান মানুষ ও সরকারি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো এই অদম্য লেখকের চিকিৎসা কিছুটা সুগম হতে পারে, যা কেবল একজন লেখকেরই নয়, বরং এক সংগ্রামী বাবার লড়াইয়ের পাথেয় হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *