
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
খয়রাসোল থানার চুড়র কলোনিতে শনিবার দুপুর থেকে রবিবার পর্যন্ত শোকের আবহ বিরাজ করে। শনিবার দুপুরে ক্ষৌরকর্ম শেষে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে অজয় নদীতে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় উনিশ ও চোদ্দ বছরের দুই পিসতুতো মামাতো ভাইয়ের। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চুড়র-সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, অজয় নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে যন্ত্রের সাহায্যে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গভীরতা ও গতিপ্রকৃতি বদলে গিয়েছে। নদীর তলদেশে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় স্নান বা নদীতে নামলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে চলেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরে এই এলাকায় জলে ডুবে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবারের এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনাকে তারা সেই ধারাবাহিকতারই করুণ পরিণতি বলে মনে করছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ অবৈধ বালি উত্তোলনকারী এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জেসিবি মেশিন দিয়ে বালি ঘাটে যাওয়ার মূল রাস্তা কেটে দেন, যাতে আপাতত বালি বোঝাই গাড়ির যাতায়াত বন্ধ থাকে।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকেই জেলা শাসকের উদ্দেশে একটি গণ-আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়, যা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (বোলপুর) গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
আবেদনপত্রে গ্রামবাসীরা উল্লেখ করেন, ভারী যন্ত্র দিয়ে গভীরভাবে বালি উত্তোলনের ফলেই নদীতে বিপজ্জনক খাদ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই অবৈধ বালি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মৃতদের পরিবারকে উপযুক্ত সরকারি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট অবৈধ বালি ঘাটগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
মৃতদের পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে এলাকার প্রবীণ, মহিলা ও যুবকদের একটাই আবেদন—”আর যেন কোনও মায়ের কোল খালি না হয়। অবৈধ বালি ঘাট চিরতরে বন্ধ হোক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদল হলেও অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পরিবর্তন চোখে পড়েনি। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের আগেও অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সভা, মিছিল ও প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির বাস্তবায়ন হয়নি। বরং গোচারণভূমি-সহ অজয় নদীর বিস্তীর্ণ অংশ অবৈধ বালি উত্তোলনের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের আশা, সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও নিরীহ মানুষের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে না যায়।
