সেবায়েত সংঘের একাউন্টে হঠাৎ আড়াই কোটি জমা: তারাপীঠে পূর্বতন মন্দির কমিটির আর্থিক স্বচ্ছতা ও পরিচালনা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন

শম্ভুনাথ সেনঃ

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে তারাপীঠ মন্দিরের আড়াই কোটি টাকা জমা পড়ল মন্দির কমিটির অফিশিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশে গত শনিবার এই বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। তবে টাকা জমা পড়ার সাথে সাথেই এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বতন অস্থায়ী কমিটির আমলে ‘জীবিতকুণ্ড’ সংস্কারের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, পূর্বতন অস্থায়ী কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবিবাবু মন্দিরের প্রতিদিনের মোটা অঙ্কের আয় ব্যাংকে জমা না রেখে নিজের কাছে গচ্ছিত রাখতেন। এই নিয়ে মন্দিরের সেবাইত ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ থাকলেও বিগত দিনে তাঁরা মুখ খুলতে সাহস পাননি। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হন এবং তদন্তের দাবি জানান। এরপরই জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। উল্লেখ্য,গত ১ জুলাই পুরনো বিতর্কিত কমিটি ভেঙে দিয়ে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভাপতি এবং পুলক চট্টোপাধ্যায়কে সম্পাদক করে ১৫ জনের একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা শাসক স্পষ্ট নির্দেশ দেন, মন্দিরের সমস্ত টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই রাখতে হবে। নতুন কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, “আমরা প্রশাসনের নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতার সাথে মন্দির পরিচালনা করব। পূর্বতন কমিটি এখনও আমাদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি। সমস্ত হিসাব বুঝে পেলেই নিয়মিত টাকা ব্যাংকে জমা করা হবে।”
পাশাপাশি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে মা তারার মূল বেদিটি কিছুটা নামানোর পরিকল্পনা করেছে নতুন কমিটি, যাতে বাইরে থেকে মায়ের মুখমণ্ডল সহজে দর্শন করা যায়। তবে মন্দিরের প্রাচীন কাঠামো রক্ষা করে এই কাজ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নকশা ও অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *