নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উদ্বেগের আবহে কড়া অবস্থান নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়; এটি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর অপরাধ। তাই এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার গত আড়াই মাসে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল, যাতে কোনও পরীক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষও নষ্ট না হয়। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, গত ১৯ তারিখ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশজুড়ে বহু পরীক্ষার্থীর সাফল্যের খবর সামনে এসেছে। তবে শুধু পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করেই সরকার দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করছে না। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। আগামীকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে এবং অনুমোদনের পর প্রস্তাবটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করে দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করবে সরকার। সরকারের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধের প্রবণতা অনেকটাই কমবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
