সাঁইথিয়া ও রামপুরহাটের দুই মহাশ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লির দাবি, নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে আবেদন দুই বিধায়কের

নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ

বীরভূমের সাঁইথিয়া ও রামপুরহাটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাশ্মশানে আধুনিক বৈদ্যুতিক দাহচুল্লি (ইলেকট্রিক ক্রিমেটোরিয়াম) স্থাপনের দাবিতে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে পৃথকভাবে আবেদন জানিয়েছেন সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা এবং রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা।

সাঁইথিয়া বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা সাঁইথিয়া শহরের ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে অবস্থিত কালিতলা মহাশ্মশানে একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের আবেদন জানান নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শ্মশানের পরিকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে এবং দাহকার্য আরও দ্রুত, সুষ্ঠু ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে সাঁইথিয়া ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণকান্ত সাহা বলেন, “সাঁইথিয়া ও আশপাশের এলাকায় বহু খেটে-খাওয়া, অসহায় মানুষ রয়েছেন। পরিবারের কারও মৃত্যু হলে অল্প সময়ের মধ্যে কাঠের ব্যবস্থা করা তাঁদের পক্ষে অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সাঁইথিয়ার কালিতলা মহাশ্মশানে একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের আবেদন জানিয়েছি। বর্তমানে দেশজুড়ে আধুনিক পরিকাঠামোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাঁইথিয়ার উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।”

অন্যদিকে, রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক ধ্রুব সাহা রামপুরহাটের প্রসিদ্ধ মা বুংকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন মহাশ্মশানে একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের দাবি জানিয়ে মন্ত্রীর হাতে আবেদনপত্র তুলে দেন। সূত্রের খবর, আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি শেষকৃত্যের জন্য আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে উঠবে বলেও মনে করা হচ্ছে। দুই বিধানসভা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের ইতিবাচক আশ্বাস মিললেও, এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্প দুটির দ্রুত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন রামপুরহাট ও সাঁইথিয়ার বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *