অন্ডালে মাটি ধসের আশঙ্কা, একের পর এক বাড়িতে ফাটল

নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল ব্লকের খাস কাজোড়া ও সংলগ্ন কয়লাখনি এলাকায় ফের ধসের আশঙ্কায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একাধিক বাড়িতে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক পরিবার মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়ি বা অস্থায়ী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে মাটির নিচ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এরপরই বসতি এলাকার বিভিন্ন বাড়ির মেঝে, দেওয়াল ও উঠোনে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। কোথাও কোথাও জমি বসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। আতঙ্কে বহু মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এবং নতুন করে ধস নামার আশঙ্কায় শিশু ও প্রবীণদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও পুরনো কয়লাখনির নিচে ফাঁপা অংশ থাকার কারণেই বারবার এই ধরনের ভূমিধস বা ভূমিধস-সদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে মাটির নিচে জল প্রবেশ করায় সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অতীতেও অন্ডালের একাধিক এলাকায় খনি-জনিত ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যাতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধসের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি চিহ্নিত করে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, শুধুমাত্র পরিদর্শন নয়, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হলেও এখনও পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, নিরাপদ আবাসন এবং এলাকাটির পূর্ণাঙ্গ ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লাখনি এলাকার উপরের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসতি গড়ে উঠলে এবং পরিত্যক্ত খনির নিচে ফাঁপা অংশ থাকলে বর্ষাকালে ধসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত মাটির স্থিতিশীলতা কমিয়ে দেয়, ফলে ভূমিধস বা জমি বসে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে অযথা প্রবেশ না করার, ফাটল দেখা দিলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *