
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে নতুন রাজনৈতিক জল্পনার সূচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই একাংশের সদস্যরা। মঙ্গলবার জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্যের স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। প্রস্তাবটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং বর্ধমান বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
৫২ সদস্যের বীরভূম জেলা পরিষদে ৫১ জন তৃণমূল কংগ্রেস এবং ১ জন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অরুণ চক্রবর্তীর মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে কার্যকর সদস্য সংখ্যা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১৪৬(২) অনুযায়ী মোট সদস্যের অন্তত এক-তৃতীয়াংশের সমর্থন থাকলেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা যায়। সেই নিয়ম মেনেই ১৯ জন সদস্য এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।
জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের সদস্য নব গোপাল বাউরি অনাস্থা প্রস্তাবটি দাখিল করেন। তিনি টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সভাধিপতি দপ্তরে আসছেন না এবং আর্থিক বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও ডাকা হচ্ছে না। ফলে বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজ আটকে রয়েছে এবং বরাদ্দ অর্থও যথাসময়ে ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সভাধিপতির প্রতি আস্থা হারিয়েই অনাস্থা আনা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমে দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখকে ঘিরে দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমানে উভয় শিবিরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যদের অধিকাংশকেই অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ১৬ আগস্ট বীরভূম জেলা পরিষদের নতুন বোর্ড গঠিত হয়। সে সময় নানুর কেন্দ্রের জেলা পরিষদ সদস্য ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখকে সভাধিপতি করা হয়। পরবর্তীতে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হাঁসন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের জেরে জেলা পরিষদেও তার প্রভাব পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। এদিকে, অনাস্থা প্রসঙ্গে কাজল শেখ কিংবা অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী অন্য কোনও সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে চাননি।এখন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশেষ সভা ডাকার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের উপর নির্ভর করছে। সেই সভায় অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হবে। প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন মিললে কাজল শেখ সভাধিপতির পদ হারাতে পারেন। অন্যথায় তিনি পদে বহাল থাকবেন। ফলে বীরভূম জেলা পরিষদের ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সভাধিপতির পদে পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকেই এখন জেলার রাজনৈতিক মহলের নজর।
