পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রকল্পের শুভসূচনা, ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আবাস প্রকল্পের উপভোক্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা অনেকটাই দূর হলো। নবান্ন থেকে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিম বঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের শুভসূচনা করেন এবং উপভোক্তাদের বাড়ি নির্মাণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ার ঘোষণা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৬৯ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাড়ি নির্মাণের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে প্রতি পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থের মাধ্যমে উপভোক্তারা দ্রুত নিজেদের স্বপ্নের পাকা বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান দেখার জন্য জেলার প্রতিটি ব্লকেই বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি প্রতীকীভাবে নির্বাচিত কয়েকজন উপভোক্তার হাতে মুখ্যমন্ত্রীর শংসাপত্র এবং চেকের ডেমো তুলে দেওয়া হয়।
বীরভূমের খয়রাশোল ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাকক্ষেও এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খয়রাশোল ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) ড. সৌমেন্দু গাঙ্গুলি। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর তিনি উপস্থিত উপভোক্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, পূর্বের ‘বাংলা আবাস যোজনা’-র নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে ‘পশ্চিম বঙ্গ আবাস’ রাখা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি শৌচালয় নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে ১২ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। তবে বর্তমান বাজারে সিমেন্ট, রড সহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি উপভোক্তাদের প্রয়োজনে নিজেদের পক্ষ থেকেও কিছু অর্থ বিনিয়োগের পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে তিনি বর্ষাকালে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, নিয়মিত মশারি ব্যবহার, পঞ্চায়েতের স্বাস্থ্যকর্মীদের স্প্রে কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং সর্বোপরি এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে খয়রাশোল ব্লকের পক্ষ থেকে প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে শংসাপত্র ও চেকের ডেমো তুলে দেওয়া হয়। উপভোক্তাদের মুখে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থপ্রাপ্তির আশ্বাসে স্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *