
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কম জলে অধিক ফলনশীল চাষাবাদ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈবিক পদ্ধতির প্রসার এবং কৃষকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরতে সিউড়িতে অনুষ্ঠিত হলো প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB), কলকাতার উদ্যোগে ‘বার্তালাপ’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালা। বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট সিউড়ির আবদারপুরে অবস্থিত ডব্লিউবিপিডিসিএল (WBPDCL) গেস্ট হাউসে জেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল।
নিজের বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে আরও লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের ওপর জোর দিতে হবে। কম জল ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি, জৈবিক চাষের প্রসার, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং কৃষকদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার লক্ষ্যে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল (MIB) টি. ভি. কে. রেড্ডি, জেলা নোডাল অফিসার ভি. বি. রামজি, শুভজিৎ জানা, বীরভূমের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শুভব্রত ঘোষ, লিড ব্যাংক ম্যানেজার নীরজ কুমার, সেন্সাস অপারেশনের অফিসার-ইন-চার্জ অনির্বাণ মণ্ডল, WBSEDCL-এর বীরভূম আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পরিমল সরকার, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অরিত্র চক্রবর্তী-সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
বক্তারা কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পগুলির সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘বার্তালাপ’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য প্রদান করা, যাতে সেই তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই কর্মশালার অন্যতম লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আয়োজকদের মতে, এমন উদ্যোগ প্রশাসন, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

