সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
২০০ দিনের কাজ, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি এবং কৃষকদের ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আইনিভাবে নিশ্চিত করা ইত্যাদি দাবিতে বীরভূম জেলা বামফ্রন্টের ডাকে সোমবার সিউড়িতে অনুষ্ঠিত হল আইন অমান্য ও জেলভরো কর্মসূচি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জেলা সদর শহরের রাজপথ। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড ভাঙা এবং গ্রেপ্তারকে ঘিরে পরিস্থিতি কার্যত ধুন্ধুমার চেহারা নেয়।
তপ্ত দুপুর উপেক্ষা করে লালঝান্ডা হাতে হাজার হাজার মানুষের জমায়েতে সরগরম হয়ে ওঠে সিউড়ির রাজপথ। বামফ্রন্ট নেতাদের দাবি, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির উপর একের পর এক আঘাত নেমে আসছে। কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, আর একশো দিনের কাজের প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হলেও গ্রামাঞ্চলে কাজের নিশ্চয়তা এখনও অধরা। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির কারণেই কৃষক, শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমশ সংকটের মুখে পড়ছে।
এদিন সিউড়ির রেডক্রশ এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়। আইন অমান্য ও জেলভরোর স্লোগান তুলে মিছিল এগিয়ে গেলে সিউড়ির গুরুত্বপূর্ণ মূল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। মাঝপথে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাদানুবাদ শুরু হয়। একসময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে। পরে সিআইটিইউ-এর বীরভূম জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী, মহিলা নেত্রী কেনিজ রবিউল ফতেমা-সহ প্রায় ২০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় বলে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের পরও থামেনি বিক্ষোভ। পুলিশের সামনেই রাস্তায় বসে পড়েন আন্দোলনকারীদের একাংশ। চলতে থাকে স্লোগান ও প্রতিবাদ। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গণআন্দোলনের নেতা রামচন্দ্র ডোম, গৌতম ঘোষ-সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বামফ্রন্ট নেতৃত্বের বক্তব্য, “মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” এদিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
