সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
বেহাল রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার, রাসায়নিক সারের কালোবাজারি বন্ধ, বয়স্কদের বার্ধক্য ভাতা প্রদান-সহ একাধিক দাবিতে বৃহস্পতিবার মুরারই ১ নম্বর ব্লকের বিডিওর কাছে ডেপুটেশন দিল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর মুরারই লোকাল কমিটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এদিন মুরারই বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একাধিক রাস্তা খানাখন্দে ভরে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলিতে জল জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অ্যাম্বুল্যান্স, স্কুলভ্যান, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি তাঁদের।
এছাড়াও এলাকার নিকাশি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়েও সরব হন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জল জমে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির কর বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও এদিন আপত্তি জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাড়ির কর ১২০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপাবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন জমা পড়ে থাকলেও অনেকেই এখনও টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়।
এদিন সারের কালোবাজারি বন্ধ করে এমআরপি মূল্যে সার সরবরাহ, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত যোগ্য ব্যক্তিকে বার্ধক্য ভাতা প্রদান এবং মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনার দাবিও তোলা হয়। পাশাপাশি SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের দ্রুত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ট্রাইবুনালে থাকা ভোটারদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করার দাবিও জানানো হয়।
ডেপুটেশনে সংগঠনের পক্ষ থেকে মোট সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-পার্টির মুরারই লোকাল কমিটির সম্পাদক গোলাম মুজতবা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের দাবিগুলি দ্রুত কার্যকর না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে।
