শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের রাজনগরের মাটি থেকে উঠে আসা প্রবীণ সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও লড়াকু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পূর্ণচন্দ্র দত্তের স্মরণে তাঁতীপাড়া কমিউনিটি হলে ১৬ আগষ্ট বিকেলে এক শোকসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘ রোগভোগের পর ৭৮ বছর বয়সে গত ৬ই আগস্ট সিউড়ি সদর হাসপাতালে তিনি প্রয়াত হন। বীরভূম জেলা ধান্য ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সমিতির সদস্যরা এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত হয়ে প্রয়াত নেতার বর্ণময় জীবনকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত পূর্ণচন্দ্র দত্তের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন পূর্ণ দত্তের স্কুলজীবনের সঙ্গী তথা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অশোক কুমার গুঁই।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের পূর্ণচন্দ্র দত্ত অনুরাগী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অনুপ কুমার গড়াই, পূর্ণচন্দ্র দত্তের সহধর্মিনী মালারানী দত্ত, বীরভূম জেলা ধান্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নবকুমার মণ্ডল প্রমুখ।সভায় রবি দত্ত, প্রফুল্ল গড়াই, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ, মোঃ শামসুজ্জোহা এমন বিভিন্ন বক্তারা স্মরণ করেন পূর্ণ দত্তের বহুমুখী ও সংগ্রামী জীবনকে। উল্লেখ্য, উত্তাল সত্তরের দশকের নকশাল আন্দোলনের সক্রিয় নেতা থেকে শুরু করে, জেলমুক্তির পর বন্দুকের পথ ছেড়ে কলমযুদ্ধ ও সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন আপসহীন। ‘নয়াপ্রজন্ম’ পত্রিকা এবং ‘চণ্ডীদাস’ পত্রিকায় ‘নকুল নস্কর’ ছদ্মনামে তাঁর সাহসী লেখালেখি বীরভূমের সাংবাদিকতা জগতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে ব্যবসা জগতের সাথে যুক্ত হয়ে তিনি বীরভূম জেলা ধান্য ব্যবসায়ী সমিতির সফল নেতৃত্বও দিয়েছিলেন।
সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহীরা এদিন বলেন, তাঁর প্রয়াণে বীরভূমের রাজনৈতিক, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এদিন সমিতির সম্পাদক নীলটু সাহা ওরফে ভোলা সাহা, প্রয়াত পূর্ণচন্দ্র দত্তের পরিবারের হাতে ধান্য ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শম্ভুনাথ সেন।

