
শম্ভুনাথ সেনঃ
আজ শ্রাবণ সংক্রান্তি। লোকায়ত ধর্মীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ সংহতি রক্ষায় আজও এই শ্রাবণ সংক্রান্তিতে বীরভূমের গ্রাম-গঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় “মনসা পূজা”। গ্রামের মানুষ মিলিত হয় একসঙ্গে। সর্পদংশনের ভয় থেকে পরিত্রাণের জন্য, আজও সেই অটুট বিশ্বাসে “মা মনসা” বিষহরি রূপে পূজিতা হন। মা মনসা লৌকিক দেবী। সাধারণত সর্পকূলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী রূপে পূজিতা হন। নাগকূলকে তুষ্ট রাখতেই সেই প্রাচীনকাল থেকে মনসা পুজোর প্রচলন। পদ্মপুরাণ,ব্রহ্মবৈবর্তপুরণেও এই দেবীর উল্লেখ আছে। সর্পদংশনের ভয় থেকে পরিত্রাণের জন্য অটুট বিশ্বাসে আজও বিষহরি রূপে পূজিতা হন বীরভূমের গ্রাম-গঞ্জে। কোথাও বা পাষাণ মূর্তি আবার অনেক গ্রামে মনসার প্রতিমা নির্মাণ ক’রে পূজো-অর্চনা করা হয়। কোথাও বা নানান অনুষ্ঠান।বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর, রাজনগরের- রাওতড়া, তাঁতীপাড়া, সাঁইথিয়ার-পাহাড়পুর, দুবরাজপুরের লালবাজার, এই ব্লকেরই পণ্ডিতপুর, দৌলতপুর এমন বিভিন্ন গ্রামে-গ্রামে মনসা পূজো আজও বহুল প্রচলিত একটি ধর্মীয় উৎসব। জেলার অধিকাংশ গ্রামে রয়েছে মনসা মন্দির। মা মনসাকে নিয়ে সারা গ্রাম পরিক্রমা করা হয়। কোথাও বা অনুষ্ঠিত হয় মনসামঙ্গল গান।


