
শম্ভুনাথ সেনঃ
পৌষ সংক্রান্তির পুণ্যস্নান উপলক্ষে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী জয়দেব মেলা-২০২৬ শুরু হল। সেই পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে আজ ১৩ জানুয়ারি, বিকেলে জয়দেব মেলার উদ্বোধন হয়। উল্লেখ্য, এই মেলা বীরভূমের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম মেলা। এই মেলা এখন বাউল মেলা হিসেবে চিহ্নিত। আবেগ উৎসাহ আর উদ্দীপনায় আজ থেকেই লক্ষ লক্ষ ভক্ত-পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে জয়দেব কেন্দুলীতে। রাত পোহালেই অজয় নদে শুরু হবে মকরের পুণ্যস্নান। আখড়ায় আখড়ায় বাউল আর কীর্তনের সুরে মুখরিত জয়দেব কেন্দুলির আকাশ বাতাস। উল্লেখ্য, বৈষ্ণব কবি জয়দেব গোস্বামীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে অজয় নদের কূলে বসেছে এই মেলা। সরকারি বাউল মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। লক্ষ্মণ দাস বাউলের উদ্বোধনী সংগীত, সেইসঙ্গে মাঙ্গলিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই মেলার উদ্বোধন করেন WBSRDA চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল।

উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছোটো, ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা সহ বীরভূম জেলা সমাহর্তা ধবল জৈন, বীরভূম জেলা সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল সেখ, বোলপুর মহকুমা শাসক অনিমেষ কান্তি মান্না, বোলপুর সাংসদ অসিত মাল সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অধিকারিকরা। এদিন এই মঞ্চ থেকে প্রকাশিত হয় “বাউল তীর্থ” নামে একটি স্মারক পত্রিকা। সরকারিভাবে মেলা চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।বীরভূম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উন্মুক্ত শৌচ এবং প্লাস্টিক বিহীন মেলা অনুষ্ঠিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মেলা দর্শনার্থীদের জন্য অস্থায়ী উন্নতমানের শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা, পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনিক নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। লাগানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা। অজয়ের তীর জুড়ে মেলা বসলেও হাজার হাজার ভক্ত পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে জয়দেব স্মৃতিবিজড়িত রাধাবিনোদের মন্দিরে। উল্লেখ্য, ৩৪৩ বছর পূর্বে ১৬৮৩ খ্রীস্টাব্দে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদ বাহাদুর বর্তমান এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। তা এখন “জয়দেব মন্দির” নামে খ্যাত।

