
উত্তম মণ্ডলঃ
রাজনগর ব্লকের চন্দ্রপুর থানার তাঁতিপাড়া হাটতলা সুপার মার্কেটে ১৪ জানুয়ারী, রবিবার আয়োজিত হলো তাঁতিপাড়া, চন্দ্রপুর ও ভবানীপুর অঞ্চল মিলে এক বর্ণময় হিন্দু সম্মেলন। আয়োজক—তাঁতিপাড়া হিন্দু সম্মেলন আয়োজক সমিতি।
আয়োজকদের ছাপানো লিফলেটে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মীয় চিন্তাধারা বা সনাতন ধর্ম যা মানবধর্ম, বিশ্বধর্ম নামেও পরিচিত হাজার হাজার বছর ধরে তা আমাদের ভারতভূমিতে সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়েছে। এই সংস্কৃতির চিন্তাধারা একটি চিরন্তন বৈজ্ঞানিক সত্য হওয়ায় সকল মানুষ ও প্রাণীর জন্য সুখ, শক্তি ও মঙ্গল বয়ে আনতে সক্ষম। অসংখ্য বাহ্যিক আক্রমণ ও আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা সত্ত্বেও সময়োপযোগী পরিকল্পনায় যথাযথ পরিবর্তন এনে এবং হিন্দু সনাতন সংস্কৃতিকে এক নতুন রূপে নিয়ে এসে এই চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ ও সর্বদা সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।
বিগত ১০০০ বছর ধরে বিভিন্ন বাহ্যিক আক্রমণ, পাশ্চাত্য ধারণার ঝড় ইত্যাদি কারণে হিন্দু সমাজে দুর্বলতা এসেছে। ভারত বিরোধী চিন্তাধারাকে আমাদের হিন্দু সমাজকে দুর্বল করার ও ভারতকে বিভক্ত করার দিকে পরিচালিত করেছে। আজ, একটি ঐশ্বরিক লক্ষণ দৃশ্যমান হচ্ছে যে, ভারতের এই হিন্দু চিন্তাধারার জীবন শৈলীর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিটি সনাতনীর এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের দুর্বলতা, দোষ ত্রুটি দূর করা, বহিরাগত ধারণার প্রভাব থেকে নিজেদের মুক্ত করা এবং আজকের সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক শাশ্বত হিন্দু দর্শনকে বিশ্বের সম্মুখে উপস্থিত করার কাজটি প্রত্যেক হিন্দুরই করতে হবে।
শেষে হিন্দুধর্মের রূপান্তরের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার আহব্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, আসুন আমরা আমাদের স্বার্থপরতা, অলসতা, বৈষম্য ও ভয় ত্যাগ করি এবং হিন্দু সম্মেলনে যোগদান করি। ভারতের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ণ এবং হিন্দু সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করি। বহু বিশিষ্টজন হাজির ছিলেন এই সম্মেলনে। অনেকেই হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সদর্থক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দুপুরে প্রায় হাজার দশেক মানুষের জন্য ছিল আহারের ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বহু সাধু-সন্ত।
