
শম্ভুনাথ সেনঃ
সদগুরু স্মরণতিথি উৎসব উপলক্ষে বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার রঞ্জনবাজার শ্রী শ্রী বিজয়কৃষ্ণ আশ্রমে ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই শুরু হয়েছে পূজা আরতি, ভজন, নাম সংকীর্তন ও সাধুমুখে ভক্তিকথা আলোচনা। উল্লেখ্য, ১৭ বছর পূর্বে দুবরাজপুরের রঞ্জনবাজারে এই আশ্রম গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর ১০ ফাল্গুন শ্রী শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ও তাঁর সহধর্মিণী যোগমায়াদেবীর স্মরণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়— এ তথ্য জানিয়েছেন আশ্রমের সেবক শ্রীচণ্ডী ব্রহ্মচারী মহারাজ। এদিন এই উৎসবে বিভিন্ন আশ্রমের মহারাজরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ছিলেন নব্যবৈষ্ণব আন্দোলনের এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সন্ন্যাস গ্রহণের পর তিনি ভক্ত-শিষ্যদের কাছে “অচ্যুতানন্দ সরস্বতী” নামে চিহ্নিত হন। ১৮৪১ খ্রীস্টাব্দে নদীয়া জেলার শিকারপুর সংলগ্ন “দহকুল” গ্রামে অদ্বৈত আচার্যের দশম বংশধর রূপে তিনি আবির্ভূত হন। সন্ন্যাসী তৈলঙ্গস্বামী, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সান্নিধ্যে এসেছিলেন এই কিংবদন্তি সাধক বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে পুরীতে তিনি লোকান্তরিত হন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর বহু ভক্ত-শিষ্য। এই মহাসাধকের নামে বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকে সতীপীঠ বক্রেশ্বর, খয়রাশোল ব্লকের পুরাতন বক্রেশ্বর, খয়রাশোল, সাঁইথিয়া ব্লকের আমোদপুর সহ তারাপীঠ ও দুবরাজপুরে এই আশ্রম গড়ে উঠেছে। এদিন দুপুরে চার হাজার ভক্ত-শিষ্যরা একসাথে অন্নপ্রসাদ গ্রহণ করেন, সেই সঙ্গে উৎসব ঘিরে উপস্থিত সকলেই ছিলেন আনন্দে মাতোয়ারা।

