
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ও দেখা দিয়েছে নানা বিভ্রান্তি। নানা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন যাদের নামের পাশে স্ট্যাম্প পড়ে আছে। সেরূপ বীরভূমের রাজনগর ব্লকের ৩০ নম্বর বুথ আড়ালি গ্রামে এস আই আর এর জন্য হেয়ারিং এর সময় নাম এসেছিল ৪৯৪ জনের। পরবর্তীতে তাঁরা প্রায় সকলেই নিজ নিজ ডকুমেন্ট সাবমিট করেছেন ব্লকে গিয়ে। কিন্তু ৪৯৪ জন এর মধ্যে ৪৪০ জনের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন অর্থাৎ বিচারাধীন বলে তালিকা প্রকাশিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা এই মুহূর্তে ভোট হলে ভোট দিতে পারবেন না। স্বভাবতই গ্রামবাসীদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ২ মার্চ সোমবার উক্ত গ্রামের লোকজন রাজনগর ব্লক অফিসে গিয়ে বিডিও অফিস ও পঞ্চায়েত সমিতিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। উল্লেখ্য এই ৩০ নম্বর বুথে একজন ‘BLO’ ও আছেন যার নাম ও বিচারাধীন বলে দেখানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল ৪৯৪ জনকে। এর মধ্যে যে ৫৪ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হেয়ারিং ডাকা হয়েছিল তাদের প্রত্যেকের নামের পাশে নির্বাচন কমিশন অ্যাপ্রুভ দেখিয়েছে। বাকি ৪৪০ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বিচারাধীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গ্রামবাসীদের অভিযোগ সংখ্যালঘু বলেই কি তাদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন? রাজনগর যুগ্ম-বিডিও মহম্মদ কাসেদ হোসেন গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না বলে তিনি আশাবাদী। অপরদিকে রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্তকর্মাধক্ষ সুকুমার সাধু জানান তারা সবসময় গ্রামবাসীদের পাশে আছেন ভবিষ্যতেও থাকবেন। যাতে একটিও বৈধ ভোটার কোন রকমে বাদ না যায় সে বিষয়ে তারা সব সময় সচেতন আছেন। রাজ্যের অন্যান্য স্থানেও একই চিত্র সামনে এসেছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডেনে আগামী ৬ তারিখ অবস্থান বিক্ষোভ করবেন বলে জানান সুকুমার সাধু। বিচারাধীন তালিকায় নাম থাকা শেখ বান্টি, মোঃ আশিক, সহ অন্যান্যরা এদিন ব্লক অফিসে এসে উপস্থিত হন। আরালী গ্রামে এ বিষয়ে একটি কমিটি ও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি শেখ মানিক ও সহ-সভাপতি কাজী গোলাম মর্তুজা জানান এই বুথের একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে সমস্ত মানুষই ভোট বয়কট করবে বলে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।
