
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। আজ ৪ মার্চ সন্ধ্যায় চলে গেলেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিত্ব বিজয় কুমার দাস। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে জেলার শিল্প ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বীরভূমের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা, পরিচিত মুখ, বহু গুণগ্রাহী ও শিল্পী বিজয় কুমার দাস বর্ধমানে ছেলের ফ্ল্যাট বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে তাঁর পরিবার সূত্রে খবর। তাঁর মৃত্যুতে সাঁইথিয়া তথা সমগ্র বীরভূম জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাস চারেক আগেই তাঁর শরীরে মারণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। মারণরোগের কামড় সহ্য করেও তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর কেমোথেরাপি চলছিল। আগামী দুদিনের মধ্যেই তাঁর পুনরায় কেমো নেওয়ার দিন ধার্য ছিল। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে শেষরক্ষা হলো না। ছেলের বাসভবনেই তিনি আজ সন্ধ্যায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিজয় কুমার দাস শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসংখ্য উদীয়মান কবি, সাহিত্যিক, নাট্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আশ্রয়দাতা। সাঁইথিয়া তথা সারা জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্যানুষ্ঠান, মেলা, উৎসব এবং কবি সাহিত্যিকদের আসরে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাঁইথিয়া জুড়ে বিষাদের সুর নেমে আসে। স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাব, লাইব্রেরি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী তথা বিজয় কুমার দাসের অনুরাগীরা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমে। আগামীকাল নিজ বাসভবন বীরভূমের সাঁইথিয়ায় মরদেহ আনা হবে বলে জানা গেছে। এখানেই বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর মরদেহে মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। উল্লেখ্য, বিজয়বাবুর মতো একজন অজাতশত্রু, নাট্যকার, সঞ্চালক, সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের চলে যাওয়া বীরভূমের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের জন্য এক বড় ক্ষতি।
