
শম্ভুনাথ সেনঃ
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগ্রেড থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি বার্তা দেন সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন সব পক্ষ। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবে। তার আগে আজকের এই শনিবারে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগ্রেড সভা ছিল নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন সুচি অনুযায়ী দুপুরে একদিনের সফরে কলকাতায় এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সভা ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বীরভূমের মুরারই স্টেশন থেকে দলে দলে মানুষ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতের ট্রেনে রওনা দেন কলকাতায়। এদিনই রাত দশটায় সিউড়ি থেকেও একটি বিশেষ ট্রেন কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাছাড়া শ দুয়েক বাস ব্রিগেড সভার উদ্দেশ্যে জেলার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পৌঁছায় বলে জানান বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর ব্যানার্জি। সুচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রথমেই প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ১৮,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস ও শুভ উদ্বোধন করেন। এদিন এই মঞ্চ থেকে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে বীরভূমের সিউড়িতে পুনর্নির্মিত রেলওয়ে স্টেশনের উদ্বোধন হয়। তাছাড়া দুবরাজপুরে বাইপাস রাস্তা নির্মাণের কথা তিনি ঘোষণা করেন। পরে সেখান থেকেই চলে যান বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার ব্রিগ্রেড জনসভায়। প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সহ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য সহ রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ববৃন্দ। এই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শমিক ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজেপি রাজ্য সহ-সভাপতি তথা বীরভূম বিজেপি নেতৃত্ব জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এই মঞ্চ থেকে প্রায় এক ঘন্টা ভাষণ দেন। আয়ুষ্মান যোজনা পশ্চিমবঙ্গে চালু করতে দেওয়া হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন থমকে গেছে। রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত রেখেছে তৃণমূল সরকার। টিএমসি সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে দিচ্ছে। এই সরকার কাজ করবেও না, করতেও দেবেও না এমন সব বক্তব্যে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, ক্ষমতা চলে যাচ্ছে বুঝে নিয়েছে তাই খেপে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। টিএমসি বিদায় নিলে এই রাজ্যে সুশাসন আসবে। চলবে ডবল ইঞ্জিন সরকার। ব্রিগেডের মেগা সভায় এদিন ফের “মোদির গ্যারান্টি” বলে উপস্থিত শ্রোতা দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করেন। তিনি আরো বলেন এই সরকারের বিদায় হবেই। রাষ্ট্রপতিকে পর্যন্ত অপমান করতে ছাড়ে না। এই অপমানের জবাব দেবেন বাংলার মানুষ। বেছে বেছে সব হিসাব নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। অপরাধীদের ঠাঁই হবে জেলে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সভাশেষে মঞ্চে তিনি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন।

