
শম্ভুনাথ সেনঃ
এ বছর বীরভূম জেলায় আলুর ফলন হয়েছে আশাতীত, কিন্তু সেই খুশির জোয়ারে বাদ সেজেছে বাজারের নিম্নমুখী দর। বিশেষ করে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর, লাভপুর, নানুর, ইলামবাজার ব্লকের প্রান্তিক চাষিদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বাম্পার ফলন হলেও পকেটে টান পড়ায় লাভের বদলে ক্ষতির হিসেব কষছেন তারা। আলুর দাম তলানিতে।খরচ উঠছে না, বাড়ছে ঋণের বোঝা। চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, এক বস্তা (৫০ কেজি) আলু উৎপাদনে সার, বীজ এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি বস্তায় চাষিদের প্রায় ১০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। চাষের জমিতে রয়েছে এখন আলু। জয়দেব কেন্দুলী এলাকার সেই ছবি ধরা পড়েছে নয়াপ্রজন্মের ওয়েবসাইটের পাতায়।
উল্লেখ্য, অনেকেই চাষের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে মোটা টাকা ঋণ নিয়েছেন, কেউ বা শেষ সম্বল হিসেবে ঘরের গয়না বন্ধক রেখেছেন। বর্তমান বাজার দরে সেই ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচটুকুও উঠবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চাষিরা সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। রাজ্য সরকার প্রতি কুইন্টাল আলু ৯৫০ টাকা দরে কেনার কথা ঘোষণা করলেও বীরভূমের অনেক ব্লকে এখনও সেই প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়নি। চাষিদের দাবি, প্রতিটি ব্লকে যেন দ্রুত সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। বর্তমান লোকসানের কথা মাথায় রেখে কৃষি ঋণের সুদে ছাড় দেওয়া অথবা কিস্তি মেটানোর সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন তারা। মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমিয়ে সরাসরি চাষিদের থেকে আলু কেনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। “মাঠ ভরা আলু থাকলেও ঘর ভরছে না খুশিতে। চাষিদের রক্ত জল করা ঘাম যেন সস্তায় বিকিয়ে যাচ্ছে বাজারে। সরকার যদি দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে না আসে, তবে আগামী দিনে বীরভূমের কৃষি অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়বে।”
