
শম্ভুনাথ সেনঃ
বিনোদনের যুগেও রেডিও যে আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল বীরভূমের আদিত্যপুর। ১৫ মার্চ, রবিবার শান্তিনিকেতন-বোলপুর সংলগ্ন আদিত্যপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো রেডিওপ্রেমী শ্রোতা ও লেখকদের সংগঠন ‘আনন্দধারা’ পরিবারের চতুর্দশ বার্ষিক মিলনমেলা। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সত্যজিৎ দাসের ঐকান্তিক উদ্যোগে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেডিও প্রেমী এক ব্যক্তিত্ব চারুচন্দ্র রায়। মঞ্চ অলংকৃত করেন আকাশবাণী শান্তিনিকেতনের বিশিষ্ট সঞ্চালক সুমন মিশ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধূর্জটি চট্টোপাধ্যায় ও শ্যামল হালদার। কেবল বীরভূম নয়, এই মিলনমেলায় অংশ নিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত— কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, হলদিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ থেকে শতাধিক রেডিওপ্রেমী মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রেডিওর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তাঁরা তাঁদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। এদিন অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সদস্যদের বর্ণাঢ্য পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে। এরপর একে একে রেডিওর পুরনো স্মৃতিকথা, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সত্যজিৎ দাসের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আনন্দধারা’র চতুর্দশ “বার্ষিক সংকলন সংখ্যা”। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন তানজিলাল সিদ্দিকী ও অরূপ মন্ডল। এদিনের এই আয়োজনের নেপথ্যে বিশেষ ভূমিকায় ছিলেন সজল কর্মকার, মৃত্যুঞ্জয় সামন্ত, সুলেখা কর্মকার, সৈকত বিশ্বাস ও অর্ঘ্য প্রামাণিক সহ অন্যান্য সদস্যরা। সব মিলিয়ে, বেতারের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা আর হারানো দিনের নস্ট্যালজিয়া মিলেমিশে ‘আনন্দধারা’র এই মিলনমেলা এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়।

