
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের পাইকর থানার নয়াগ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মৃত শিশুর নাম হালিমা খাতুন। অভিযোগের তির শিশুর কাকিমা সোনিয়া খাতুনের দিকে। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠা তথ্য— কেবল পারিবারিক আক্রোশ মেটাতে ওই একরত্তি শিশুকে বাথরুমের জলে ডুবিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর গত ১১ মার্চ নয়াগ্রামের এই শিশুটি হালিমা খাতুন আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির ছাদে বস্তাবন্দি অবস্থায় নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই পাইকর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কাকিমা সোনিয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতে থাকা সোনিয়া খাতুনকে পুনরায় পাইকর থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে একটি পুতুলের সাহায্যে অভিযুক্ত কীভাবে ওই শিশুকে জলে ডুবিয়ে মারল, তার সম্পূর্ণ দৃশ্য পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করা হয়। গোটা প্রক্রিয়াটির ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে যাতে আদালতে অকাট্য প্রমাণ পেশ করা যায়। এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষ হওয়ার পর পুলিশ পুনরায় অভিযুক্ত সোনিয়া খাতুনকে ১৫ মার্চ রামপুরহাট আদালতে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক কোনো বিবাদের জেরে চরম প্রতিহিংসা থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ১৩ মাসের এক শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে গোটা নয়াগ্রাম জুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সকলেই।

ছবিঃ দিপু মিঞা, মুরারই, বীরভূম
