
শম্ভুনাথ সেনঃ
ফাল্গুনের মিঠে রোদে আর হিমেল হাওয়ায় এক নান্দনিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল বীরভূমের লাভপুর ব্লকের “সাওড়াপুর” গ্রাম। ফাগুনের বিদায় দিনে, ইং ১৫ মার্চ ‘কাঞ্চন শ্যামল সাহিত্য সভা’-র সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় লাভপুরের “হাঁসুলী কৃষি সংস্কৃতি পাঠশালায়” আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য সাহিত্য সভা ও নবনির্মিত অতিথি ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন অনুষ্ঠান। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সাহিত্য সভার কর্ণধার অনিতা মুখোপাধ্যায়। তিনি তাঁর ভাষণে কৃষি পাঠশালার কর্মীদের সমাজসেবামূলক কাজের প্রশংসা করে বলেন, “যাঁদের মধ্যে মনুষ্যত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ সজীব, তাঁরাই প্রকৃত সমাজসেবক।”

অনুষ্ঠানে সমাজ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দেন কাটোয়া থেকে আগত বিশিষ্ট কবি শ্যামল দেবনাথ। এরপর স্বরচিত কবিতা পাঠে সমৃদ্ধ করেন রিঙ্কু ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চৌধুরী, বিপুলানন্দ ভট্টাচার্য প্রমুখ। সংগীত পরিবেশনায় শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন কুমুদ রঞ্জন মণ্ডল, অজয় মণ্ডল ও মলয় মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। বীরভূম জেলার নয়াপ্রজন্ম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত কাঞ্চন সরকার-এর একটি অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো এই মঞ্চে। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী, সমাজের প্রান্তিক স্তর থেকে উঠে আসা দুই মহীয়সী নারী— সন্ধ্যা দাস ও মিতা সৌ-কে তাঁদের অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষ সংবর্ধনা ও সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় এদিন।

হাঁসুলী কৃষি সংস্কৃতি পাঠশালার কর্ণধার নিতাই মাল সংগীতের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধের এক বলিষ্ঠ বার্তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে এলাকার দুঃস্থ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। এই মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ সহযোগিতা করেন বিকাশ পাল, রঞ্জনা ভট্টাচার্য ও সুধা বরাট বিশ্বাস ও অন্যান্য সদস্যরা। পাঠশালার কচিকাঁচাদের নাচ ও গান অনুষ্ঠানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত নিপুণভাবে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুশীল গড়াই। মধ্যাহ্নভোজের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।

