
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত রাজগ্রাম এলাকায় পাথর খাদানে কাজ করার সময় ভয়াবহ ধস নেমে মৃত্যু হল অন্তত তিন শ্রমিকের। আজ, ১৬ মার্চ সোমবার দুপুরে রাজগ্রাম-গোপালপুর এলাকার জিতপুর খাদানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় আরও সাত-আট জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, আজ সোমবার বেলা ১২টা থেকে ১২:৩০টা নাগাদ জিতপুর খাদানের গভীরে কাজ করছিলেন একদল শ্রমিক। সেই সময় আচমকাই খাদানের ওপরের অংশ থেকে বিশাল মাটির স্তূপ ও পাথরের ধস নামে। মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকজন শ্রমিক মাটির তলায় চাপা পড়ে যান। চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ও অন্য শ্রমিকরা উদ্ধার কাজে হাত লাগান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বনরামপুর গ্রামের একই পরিবারের দুই সদস্য— বাবু শেখ ও আমির শেখ। অন্যজন পার্শ্ববর্তী মহুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ধসের জেরে অন্তত সাত থেকে আট জন শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, খাদান মালিক সিরাজুল ওরফে টুটুল খান (যিনি একজন জেলা পরিষদ সদস্য) অধিক মুনাফার লোভে কোনও নিরাপত্তা বিধি না মেনেই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননকার্য চালাচ্ছিলেন। শ্রমিক সংগঠন AIUTUC এর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘লুটেরাদের চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনের সভানেত্রী আয়েশা খাতুন ও সম্পাদক আনসারুল শেখ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন “ন্যূনতম মজুরি না দিয়ে এবং নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে এলাকার যুবকদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আমরা দোষী মালিকের কঠোর শাস্তি এবং মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।” এদিকে খাদানের মালিক পলাতক বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দেখা হচ্ছে খাদানটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি-না!
