
শম্ভুনাথ সেনঃ
বসন্তের তপ্ত দুপুরে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে আছড়ে পড়ল বড় খবর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে আজ, ১৭ মার্চ রাজ্যজুড়ে ২৯১টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টিতে লড়াই করবে তৃণমূল, বাকি ৩টি আসন ছাড়া হয়েছে পাহাড়ের বন্ধুদের জন্য। উল্লেখ্য, তৃণমূলের গড় হিসেবে পরিচিত বীরভূম জেলায় এবার প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দিয়েছে শাসকদল। জেলার ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৯টিতে পুরোনো মুখে আস্থা রাখলেও, হাসন এবং সিউড়ি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আনা হয়েছে নতুন মুখ।
“হাসন” বিধানসভায় বর্তমান বিধায়ক ডাঃ অশোক চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে বীরভূম জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল সেখকে। জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতাই ফায়েজুলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, “সিউড়ি” বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর বদলে প্রার্থী করা হয়েছে সিউড়ি পৌরসভার বর্তমান পৌরপ্রধান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়-কে। শহরের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উজ্জ্বলবাবুর জনপ্রিয়তাকে সরাসরি ভোটে কাজে লাগাতে চাইছে দল। দলের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রত্যাশিতভাবেই কিছুটা ব্যাকফুটে অভিজ্ঞ নেতা ডাঃ অশোক চট্টোপাধ্যায় ও বিকাশ রায়চৌধুরী। তাছাড়া দুবরাজপুর বিধানসভায় এবার প্রার্থী হয়েছে নরেশচন্দ্র বাউরিকে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপির অনুপ কুমার সাহা জয়লাভ করেন। মূলত সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে এবং নিচুতলার মানুষের কাছে পৌঁছাতে ‘পারফরম্যান্স’ ও ‘নতুন মুখ’-কে প্রাধান্য দেওয়ার যে কৌশল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছিলেন, বীরভূমের এই বদল তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আর সময় নষ্ট করতে রাজি নন প্রার্থীরা। তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বীরভূমের জেলাজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন এবং জনসংযোগ। নবীন ও প্রবীণের এই মিশ্রণে তৃণমূলের এই ‘হেভিওয়েট’ তালিকা আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের কাছে কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।

