বীরভূমের শিল্পে নয়া পালক: দুবরাজপুরে অত্যাধুনিক ‘ফোর্টিফাইড’ রাইস মিলের পথচলা শুরু হল

শম্ভুনাথ সেনঃ

কৃষি নির্ভর বীরভূমের শিল্প মানচিত্রে যুক্ত হলো এক নতুন পালক। জেলার ইতিহাসে এই প্রথমবার পুষ্টিগুণে ঠাসা ‘ফোর্টিফাইড’ চাল (Fortified Rice) উৎপাদনের লক্ষ্যে পথচলা শুরু করল “BMF GROUP OF INDUSTRIES” নামে এক অত্যাধুনিক চাল কল। শুক্রবার, ২০ মার্চ, দুবরাজপুর ব্লকের হেতমপুরে রাজ্য সড়কের ধারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন হয়। এদিন মাঙ্গলিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন দুবরাজপুর পুরসভার পুরপ্রধান পীযূষ পাণ্ডে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবরাজপুর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক নরেশচন্দ্র বাউরি, উপ-পুরপ্রধান মির্জা শওকত আলী, কাউন্সিলর মানিক মুখার্জি, সাগর কুণ্ড ও বুলটি চক্রবর্তী সহ পুরসভার বিভিন্ন আধিকারিক ও মিল কর্মীরা। এছাড়া এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, দুবরাজপুরের শিল্প মহলে ‘ভারত মাতা মিল’ একটি সুপরিচিত নাম। ১৯৫২ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে আসা এই সংস্থারই এক নতুন ও উন্নত শাখা হিসেবে এই মিলটি আত্মপ্রকাশ করল। মিলের কর্ণধার করণ চৌধুরী জানান, কেবল আধুনিক প্রযুক্তিই নয়, এই মিলে ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্নভাবে চাল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এখান থেকে উৎপাদিত চাল জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে। এমনকি বিদেশের বাজারেও রপ্তানি করার মতো উন্নত মানের (Export Quality) চাল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আসলে ফর্টিফাইড রাইস (Fortified Rice) হল জিংক, ভিটামিন বি ১২, বি-৩, আইরন এবং ফলিক এসিড পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এমন এক ধরণের চাল, যার সঙ্গে সাধারণ চালের তুলনায় অতিরিক্ত ভিটামিন ও খনিজ উপাদান মেশানো হয়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের অপুষ্টি দূর করার লক্ষ্যে এটি একটি আধুনিক ও কার্যকর সমাধান।
​সহজ কথায়, সাধারণ চালের সাথে কৃত্রিমভাবে তৈরি পুষ্টিসমৃদ্ধ চালের দানা (Fortified Rice Kernels – FRK) মিশিয়ে এই চাল তৈরি করা হয়। এটি দেখতে সাধারণ চালের মতোই, কিন্তু এতে বাড়তি পুষ্টি থাকে যা রান্নার পর আলাদা করে বোঝা যায় না।


নতুন এই মিলটি ঘিরে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রকল্পের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৫০০ জন কর্মপ্রার্থীর কর্মসংস্থান হবে, যা এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও মজবুত করবে। বীরভূমের মাটিতে বেসরকারি উদ্যোগে এমন একটি উন্নত মানের চাল কল স্থাপনে আগামী দিনে অনেকেই রুটি রুজির সন্ধান পাবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *