
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
২১ মার্চ শনিবার সমগ্র দেশের পাশাপাশি বীরভূমের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়ও নানান কর্মসূচির মাধ্যমে আনন্দ উৎসব ঈদ মোবারক পালিত হয়। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রাম, শহর তথা কমিটির উদ্যোগে নাত, গজল, ইসলামিক ক্যুইজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেরূপ বীরভূম জেলা ঈদ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে সিউড়ি ঈদগাহ ময়দানে ১১৩ তম ঈদ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সিউড়ি ঈদ গাহ ময়দানে৷ এদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তারপরই চলে পারস্পরিক কোলাকুলি, সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মুখ মিষ্টি করানোর পর্ব। ঈদের আনন্দ সকলের মধ্যে করে নেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও সিউড়ি শহরের আট থেকে আশি নারী, পুরুষ, শিশু সহ সকল বয়সের মানুষের উপস্থিতি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় আনন্দের সহিত। বয়স ও নারী পুরুষ বিভাগ অনুযায়ী মোট ১৭ টি ইভেন্টে খেলা হয়। যার মধ্যে ছিল দৌড়, বিস্কুট দৌড়, অংক দৌড়, মার্বেল দৌড়। সর্বসাধারণের জন্য ছিল এয়ারপোর্ট গেম ও স্লো সাইকেল দৌড়। বিবাহিত মহিলাদের জন্য ছিল ৫০ মিটার ও ১০০ মিটার দৌড় এবং সাইকেল দৌড়। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্যও দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা ছিল। সিনিয়র সিটিজেন তথা ষাট বছরের উর্ধ্বে বয়স্কদের জন্য ছিল ক্রিকেট বল থ্রো। সর্বোপরি আয়োজক তথা ক্রীড়া কমিটির সিনিয়র ও জুনিয়রদের জন্য ছিল দড়ি টানাটানির প্রতিযোগিতা।

এদিন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিউড়ি পৌরসভার পৌর প্রধান উজ্জ্বল চ্যাটার্জী, সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ লক্ষ্মী নারায়ণ মন্ডল, বীরভূম মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও ছিলেন পলাশ চৌধুরী প্রাক্তন জেলা স্কুল পরিদর্শক, চিকিৎসক রতন কুমার দত্ত, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ মলয় সিনহা, জামিলা বুলন্দ আকতারি, সন্দীপন রায় সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতিটি বিভাগ অনুযায়ী প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো চার জন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাশ পড়ুয়াকে স্কলারশীপ প্রদান করা হয়৷ বীরভূম জেলা ঈদ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রেজা বলেন-” ক্রীড়ায় জয় লাভ নহে, অংশগ্রহণই বড় কথা”- মনীষীদের সেই কথাকে সামনে রেখে সিউড়ি শহরবাসীর জন্য ঈদের দিনে নানান খেলার ছলে আনন্দ দান করা এবং সমবেত হয়ে আনন্দ উপভোগ করার উদ্দেশ্যেই মূলত এরূপ কর্মসূচি।

