
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
অন্যান্য কষ্টের ন্যায় এসআইআর-র নিয়েও মানুষের কষ্টের শেষ নেই। ফর্ম পূরণ, শুনানি শিবিরে হাজিরা, তারপর নামের লম্বা তালিকা বিচারাধীন, পরের ধাপে ডিলিট। এস আই আর এর ফলে ভোটার তালিকায় নাম না ওঠা মানুষজন আজও আতঙ্কে। রাজনৈতিক নেতা থেকে সরকারি অফিসার দেখলেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার কাতর আবেদন। বিশেষ করে জীবিত মানুষকে যখন মৃত ঘোষণা করা হয় তখন ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেরূপ ভোগান্তির শিকার এক সাধারণ ঘরের খেটে খাওয়া মহিলা । বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। নানা রোগব্যাধিতে জর্জরিত। অন্যের দয়ায় তথা চেয়েমেগে কোনো রকমে দিন গুজরান। কাজ করার ক্ষমতা নেই। এতকিছুর পরও সবকষ্টই সহ্য করে নেয় কিন্তু জীবিত থাকতেও যখন সরকারি ভাবে ‘মৃত’ ঘোষণা করে দেওয়া হয়, তখন অসহ্য হয়ে ওঠে যন্ত্রণা। তেমনি একজন স্বামী হারানো খান্দি বাউরি জীবন্ত অথচ ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ‘মৃত’ তকমা ! ঘটনাটি দুবরাজপুর ব্লক এলাকার মেটেলা গদাধরপুর গ্রামের। যদিও এই গ্রামভুক্ত পঞ্চায়েত এলাকাটি সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ন্যায় সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী মতিউর রহমান জনসংযোগ তথা ভোট প্রচারে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন, ঠিক তখনই প্রার্থীকে হাতের কাছে পেয়ে দু-হাত জোর করে খান্দি বাউরির কাকুতি মিনতি করে বলতে থাকেন-‘‘আমার নামটো তুলে দিন ভুটে । স্বামী মরে গেইছে । আমি মরি নাই কিন্তু আমার নামটোও বাদ দিয়ে দিয়েছে মরে গেইছি বলে ।’’ রেশনের চাল আর এঘর ওঘর করে যা মেলে তাই দিয়ে কোনোক্রমে বেঁচে আছে বছর পয়ষট্টির এই বৃদ্ধা । না পাওয়ার তালিকা লম্বা। তা নিয়ে আক্ষেপ আছে । আছে দু:খ কিন্তু আজ তাঁর সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা – ভোটে নাম না থাকা । সিপিআইএম প্রার্থী মতিউর রহমান বলেন, “জোকস চলছে। আগে এইগুলো সংশোধন করা দরকার তারপর নির্বাচন করতে হবে।”
