
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান সীমান্ত সংলগ্ন অজয় নদের তীরে, শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ সেবাশ্রমের স্নিগ্ধ প্রাঙ্গণে ২৯ মার্চ সুসম্পন্ন হলো এক মনোজ্ঞ সাহিত্য সভা ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান। বসন্তের সকালে প্রকৃতির অবারিত কোলে সৃজনশীলতার এই আসরটি আক্ষরিক অর্থেই এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল। বিশিষ্ট লেখক পরিমল ঠাকুরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান্দরা কলেজের অধ্যক্ষ জ্যোতিপ্রকাশ মণ্ডল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া মেজিয়া গভমেন্ট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রবিন ঘোষ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক তপন দে সরকার, সেবাশ্রম পরিচালন কমিটির কর্ণধার দীনবন্ধু ঘোষ, বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক সরোজ কর্মকার, লেখক সুনীল কর্মকারের মতো বিশিষ্ট গুণীজনেরা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও উদ্বোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এদিনের সভার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের কেন্দ্রগড়িয়ার ভূমিপুত্র রণজিৎ সরকারের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ “খণ্ডিত ভারতে অস্তিত্ব সংকটে বাঙালি ও বাংলা ভাষা”-র আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষা ও বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই নিয়ে লেখকের লেখনী উপস্থিত দর্শকদের ভাবিয়ে তোলে। গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সংকীর্তন পত্রিকার সম্পাদক উজ্জ্বল মিত্র ঠাকুরের সুনিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অন্তত ৬০ জন কবি সাহিত্যিকের কথা, কাব্যপাঠে। সন্তোষ চক্রবর্তী, সত্যজিৎ দাস, স্বপন দত্ত, সংঘমিত্রা কবিরাজ, পরেশ দে চৌধুরী, মুক্তিপদ মণ্ডল, দীপক পৈতণ্ডী, সুতপা ব্যানার্জির মতো কবিদের কণ্ঠে ঝরে পড়ে সমকালীন ভাবনার নির্যাস। পাশাপাশি পল্লবী পান ও সংস্কৃতি দাসের নৃত্য এবং বিশ্বরঞ্জন দাসের বাঁশির সুর শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে ‘সংকীর্তন’ পত্রিকার সম্পাদক উজ্জ্বল মিত্র ঠাকুর ও সাহিত্যিক বিমলাংশু শেখর চক্রবর্তীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরিশেষে, বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক সরোজ কর্মকারের ‘বাঙালি সংস্কৃতি ও মানবিকতা’ বিষয়ক সারগর্ভ ভাষণ উপস্থিত সকলকে আপ্লুত করে। মধ্যাহ্নভোজনের মাধ্যমে এই স্মরণীয় সাহিত্য আড্ডার সমাপ্তি ঘটে।

