
শম্ভুনাথ সেনঃ
বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপে বীরভূমের মাটিতে দ্বিতীয় জনসভাটি আজ ১ লা এপ্রিল সেরে ফেললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চৈত্র শেষের তপ্ত দুপুরে নানুরের পাপুড়ি আল আমিন মিশন ময়দানে নানুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় জনজোয়ার আছড়ে পড়ে। ভাষণের শুরুতেই তিনি উপস্থিত জনতাকে আগাম শুভ নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানান। বীরভূমের মামাবাড়ির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি যেমন ধান কাটতে পারি, তেমনই পারি ধান বুনতেও।”
এদিন মঞ্চ থেকে তিনি জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। নানুর কেন্দ্রের বিধানচন্দ্র মাঝি, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিংহ, হাসনের ফায়েজুল হক (কাজল সেখ), লাভপুর কেন্দ্রের অভিজিৎ সিংহ, দুবরাজপুরের নরেশ চন্দ্র বাউরী এবং রামপুরহাটের আশিস ব্যানার্জিদের পক্ষে ভোট চান তিনি। নেত্রীর গলায় যেমন ছিল রাজ্য সরকারের গত কয়েক বছরের সাফল্যের খতিয়ান, তেমনই ছিল প্রতিপক্ষ বিজেপি শিবিরের প্রতি তীক্ষ্ণ হুঁশিয়ারি। সাফ জানান, “তৃণমূল যা বলে তা করে।” সতর্ক করে বলেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর যেন কেউ ভুল করে অন্যদের না দেন, কারণ বিজেপি সেই টাকা তুলে নিতে পারে।
যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তাঁর আশ্বাস, ‘যুব সাথী” প্রকল্পের টাকা সবাই পাবেন; যাঁদের আবেদন এখনো বাকি বা ভুল হয়েছে, তাঁরা পুনরায় ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। জনতাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে রাজ্যে কোনো কাঁচা বাড়ি থাকবে না এবং ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে পরিশ্রুত পানীয় জল। নির্বাচনকে ‘অধিকার রক্ষার লড়াই’ বলে অভিহিত করে মা-বোনেদের কাছে জয়ের অঙ্গীকার চান তিনি। পাশাপাশি, বিজেপির ‘চক্রান্ত’ রুখতে প্রার্থীদের পরামর্শ দেন, মনোনয়ন বাতিলের ষড়যন্ত্র এড়াতে প্রয়োজনে আইনজীবী সঙ্গে নিয়ে যেন তাঁরা নমিনেশন জমা দেন।

