তৃণমূল বিজেপি উভয় দলই মনোনয়ন দাখিল করল বীরভূমে: রামপুরহাটে উপস্থিত বিজেপির হ্যাভিওয়েট নেতা ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী

শম্ভুনাথ সেনঃ

নির্বাচনী আবহে ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তর চত্বরে ধরা পড়ল এক ভিন্ন চিত্র। তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় শিবিরের প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে দিনভর ছিল টানটান উত্তেজনা। এদিন বিজেপির পালে হাওয়া টানতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির মোহন চরণ মাঝি। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে তারাপীঠ সংলগ্ন এলাকায় অবতরণ করেন এবং সড়কপথে রামপুরহাটে পৌঁছে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহা, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিল সিংহ ও রিংকি ঘোষের সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। এদিন রামপুরহাট বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই মনোনয়ন জমা দিতেও অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে উড়িয়ে আনতে হচ্ছে।” একই সুরে হাসন বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফায়েজুল হক ওরফে কাজল সেখ বিজেপি নেতাদের ‘পরিযায়ী পাখি’র সঙ্গে তুলনা করেন। এদিনই রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে তৃণমূলের আসিস বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ কেন্দ্রের ফাইজুল হক নলহাটি রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ এবং মুরারয় কেন্দ্রের ডাঃ মোশারফ হোসেন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
অন্যদিকে, বীরভূমের সিউড়ি ও বোলপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার হিড়িক ছিল। বোলপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেন বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ কুমার ঘোষ, নানুর কেন্দ্রের প্রার্থী খোকন দাস ও লাভপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ওঝা। একই দিনে তৃণমূলের বোলপুর বিধানসভার প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ, নানুর কেন্দ্রের বিধানচন্দ্র মাঝি, লাভপুর কেন্দ্রের অভিজিৎ সিংহ মনোনয়ন জমা দেন। সদর সিউড়িতে কড়া নিরাপত্তায় মিছিল করে মনোনয়ন দাখিল করেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা, সাঁইথিয়ার বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহা ও ময়ূরেশ্বরের কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্যদিকে এই সিউড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরে তৃণমূলের উজ্জল চট্টোপাধ্যায়, সাঁইথিয়ার নীলাবতী সাহা, দুবরাজপুর কেন্দ্রের প্রার্থী নরেশ চন্দ্র বাউরী ময়ূরেশ্বরের অভিজিৎ রায় এই চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। উভয় দল একই দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় দিনভর সদর সিউড়ি ছিল সরগরম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *