
শম্ভুনাথ সেনঃ
যাঁর তুলির টানে ভারতের সংবিধানের পাতাগুলো প্রাণ পেয়েছিল, আজ তাঁরই পরিবার নিজ দেশে ‘পরিচয় সংকটে’। শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক দম্পতি, শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও নাতবউ দীপা সেনের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এই ঘটনায় স্তম্ভিত ও মর্মাহত বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতনের আপামর মানুষজন। উল্লেখ্য, ৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন শিল্পাচার্যের কন্যা যমুনা সেনের পুত্র। ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে মাধ্যমিক পাশ করা এই প্রবীণ নাগরিক সারা জীবন দেশের সেবা করেছেন ডিভিসির উচ্চপদে। ১৯৯৬ সাল থেকে শান্তিনিকেতনের পৈতৃক বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘হিয়ারিং’ করা হলেও সমাধান মেলেনি। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে তাঁদের নাম বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছে। বাড়ির কর্মী চক্রধর নায়কের নামটিও একইভাবে বাদ পড়েছে। পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ডিভিসির পিপিও (PPO)—সব নথি থাকা সত্ত্বেও এই অসম্মান মেনে নিতে পারছেন না ৮২ বছরের দীপা সেন ও ৮৮ বছরের সুপ্রবুদ্ধ বাবু। রবীন্দ্র-স্নেহধন্য পরিবারের এই অবমাননা আজ শান্তিনিকেতনের গণ্ডি ছাড়িয়ে নাগরিক অধিকার নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। সুপ্রবুদ্ধ সেন আক্ষেপের সঙ্গে জানান, “যে সংবিধানের অলঙ্করণ করেছিলেন আমার দাদু, সেই দেশেই আজ আমরা ব্রাত্য? এ যন্ত্রণা কেবল নাম বাদ পড়ার নয়, এ যন্ত্রণা অস্তিত্বের।”

