
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে জেলা সদর সিউড়ির চাঁদমারি ময়দানে আজ ৯ এপ্রিল আয়োজিত হল ‘বিজয় সংকল্প সভা’। সভায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিশাল জনজোয়ারের সাক্ষী থাকলেন। প্রথমেই মোদীজিকে স্বাগতম জানিয়ে তাঁকে গলায় উত্তরীয় এবং হাতে তারামায়ের প্রতিকৃতি ও বাউলের একতারা দিয়ে সম্মাননা জ্ঞাপন করেন বিজেপি নেতৃত্ব। পরে মোদীজী ভারতমাতার জয়গান গেয়ে এবং বীরভূমের পুণ্যভূমিকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে তিনি তাঁর আধ ঘণ্টার ভাষণ শুরু করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় এই মাটির বীরত্ব ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বীরভূম দুকড়িবাল দেবী, সাধক বামাক্ষ্যাপা, নিত্যানন্দ প্রভু, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি।” এরপর তিনি বিজেপি প্রার্থীদের হাতে হাত মিলিয়ে সম্ভাষণ শুরু করেন। নাম না করে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মোদির অভিযোগ, বর্তমান টি এম সি সরকার উন্নয়নের অঙ্গীকার করে বালি, পাথর ও কয়লা লুটে মত্ত এবং বাংলায় ‘গুন্ডারাজ ও জঙ্গলরাজ’ কায়েম করেছে। বিজেপি প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা-মাটি-মানুষের নাম করে বাংলার সম্পদ লুট করা হচ্ছে। এর হিসাব নেওয়া হবে।তৃণমূল অহংকারী হয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি ও সংবিধানকে অপমান করেছে, যার যোগ্য জবাব মানুষ আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে দেবে। মোদি এদিন বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার ডাক দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বাংলায় আর ভয় নয়, এবার ভরসা চাই।” বীরভূমের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বন্ধ স্কুল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁদের সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব হবে ‘মোদি গ্যারান্টি’। পরিশেষে, পদ্ম চিহ্নে ভোট দিয়ে বীরভূম থেকে দুর্নীতির শাসন উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সভা শেষ করেন। এদিন মঞ্চ আলোকিত করেন জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুবরাজপুরের বিদায়ী বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, বোলপুরের প্রার্থী দিলীপ কুমার ঘোষ, রামপুরহাটের প্রার্থী ধ্রুব সাহা সহ ১১ টি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরা এবং রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

