
শম্ভুনাথ সেনঃ
চৈত্র শেষের তপ্ত দুপুরে বীরভূমের তপ্ত লাল মাটিতে বেজে উঠল তৃণমূলের নির্বাচনী রণদামামা। আজ ১৩ এপ্রিল, সোমবার জেলা সদর সিউড়ির ইরিগেশন কলোনির মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে বিজেপিকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবারের লড়াই আসলে বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের গত কয়েক বছরের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমানে রাজ্যে ১০৫টি সামাজিক প্রকল্প চালু রয়েছে, যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করে। বীরভূমের ধর্মীয় ও পর্যটন গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে তারাপীঠ ও বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ গঠন এবং সতীপীঠগুলির আমূল সংস্কারের খতিয়ান দেন তিনি। তবে এদিনের সভার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ডেউচা-পাঁচামী কয়লা খনি প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শিল্প প্রকল্পে বীরভূমের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে।
নির্বাচনকে ‘রাজনৈতিক যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই লড়াইয়ে কোনো আপস নেই।” বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওরা হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে ভোটবাক্স ভরতে চাইছে, কিন্তু বাংলা তা রুখে দেবে। দিল্লির বাহিনীর ভয় উপেক্ষা করে জনগণকে ভোট দেওয়ার সাহস জোগান তিনি। প্রলোভন ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি বলেন, গণনার সময় বিজেপি বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, তাই প্রতিটি কর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রবীণ নেতা তথা তৃণমূলের প্রার্থী ড. আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা, অভিজিৎ সিনহা, ফায়েজুল হক এবং অনুব্রত মণ্ডল, সাংসদ অসিত মাল, রবি মুরমু এমন সব দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ২৯৪টি আসনেই তিনিই প্রার্থী। বীরভূমের মাটি থেকে তাঁর আহ্বান— কংগ্রেস, সিপিএম বা নির্দলকে নয়, বাংলার উন্নয়ন বজায় রাখতে ভোট দিন জোড়া ফুলেই।

