
শম্ভুনাথ সেনঃ
জেলা রাজনীতির এক নক্ষত্রপতন ঘটল। প্রয়াত হলেন জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা অরুণ চক্রবর্তী। আজ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, দুবরাজপুর ব্লকের পদুমা গ্রাম পঞ্চায়েতের বসহরি গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিন বেলা ১২:১০ মিনিট নাগাদ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় (সুগার ফল) তাঁর মৃত্যু হয়। ব্লক স্তরের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার অকাল প্রয়াণে জেলার রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, অরুণ চক্রবর্তী কেবল একজন জনপ্রতিনিধিই ছিলেন না, বরং তাঁর অনন্য কণ্ঠস্বর এবং বাগ্মিতা তাঁকে জেলাজুড়ে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাঁকে জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলার খাদ্য সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। দুবরাজপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে মজবুত করার নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বসহরি গ্রামের বাসভবনে ভিড় জমান অনুগামী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছান দুবরাজপুর পৌরসভার পৌরপিতা পীযূষ পাণ্ডে, উপ-পুরপিতা মির্জা সৌকত আলী সহ দলীয় নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী দিপালী চক্রবর্তী, এক পুত্র সোমনাথ চক্রবর্তী, কন্যা, জামাতা ও অসংখ্য গুণমুগ্ধকে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে বীরভূমের পুণ্যভূমি জয়দেব কেন্দুলির মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এক সহজ-সরল ও কর্মঠ জননেতার বিদায়ে বীরভূমের রাজনৈতিক আঙিনায় এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

