ভোটকর্মীদের ক্ষোভ: পোস্টাল ব্যালট জমা দিতে নাজেহাল দশা, অব্যবস্থার অভিযোগ বীরভূমের রামপুরহাটে

শম্ভুনাথ সেনঃ

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শিবিরে পোস্টাল ব্যালট জমা দিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন ভোটকর্মীরা। ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, বীরভূমের রামপুরহাট থানার জয়কৃষ্ণপুর হাইস্কুলে ভোটকর্মীদের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এই বিশৃঙ্খলার চিত্র ধরা পড়ে। প্রশাসনিক অব্যবস্থার জেরে দীর্ঘক্ষণ কড়া রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্তব্যরত ভোটকর্মীরা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের দিনেই ভোটকর্মীদের পোস্টাল ব্যালট জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। অভিযোগ স্কুলের দোতলার একটি ছোট ঘরে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটকর্মীদের ব্যালট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে কেন দোতলায় ভোটকেন্দ্র করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উপস্থিত কর্মীরা। প্রখর রোদের মধ্যে কোনো ছাউনি ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন তারা। তপ্ত আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ধৈর্য হারান ভোটকর্মীরা। কমিশনের এই “অমানবিক” পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে তারা সরব হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে টনক নড়ে প্রশাসনের। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দোতলা থেকে সরিয়ে নিচের তলায় প্রতিটি বিধানসভার জন্য আলাদা আলাদা বুথ বা টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। ভোটকর্মীদের মতে, যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করতে দিনরাত এক করছেন, তাদের নুন্যতম সুযোগ-সুবিধার দিকে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই হয়রানি বলে তারা দাবি করেন। অবশেষে বিকালের দিকে আলাদা আলাদা কাউন্টার চালু হওয়ায় ভিড় কমে এবং ব্যালট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা মসৃণ হয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিশনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলাজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *