তপ্ত রোদেও উৎসবের মেজাজ: বীরভূমে রেকর্ড ভোটদান, তবে সামান্য বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে

শম্ভুনাথ সেনঃ

বীরভূমে আজ ২৩ এপ্রিল গণতন্ত্রের উৎসব—“অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচন” অনুষ্ঠিত হল। আজ প্রথম দফায় ১৬ টি জেলার ১৫২ টি কেন্দ্রের মধ্যে বীরভূমের ১১টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোট শেষ হতে না হতেই ভোটের রেজাল্ট কি হবে এই নিয়েই সর্বত্র চলছে জোর বিশ্লেষণ। বাস-ট্রেন, রাস্তা-ঘাট, চায়ের দোকান, ক্লাব ঘর সর্বত্রই আলোচনা “ভোট”! তবে এবার, তেমন করে হৈ- হুল্লোর নেই, সবাই যেন খানিকটা চুপচাপ। ভোটারদের মনের কথা যেন গোপন রাখছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যেখানে ভোটের ঢাকের কাঠি পড়তেই শুরু হয়ে যায় জটলা, মিটিং-মিছিল, এখন সেসব জায়গায় ফিসফাস গুঞ্জন!
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে নির্বাচন কমিশন এবার অভূতপূর্ব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। বাংলার প্রথম দফার ভোটে বীরভূম জেলাজুড়ে দেখা গেল এক মিশ্র ছবি। জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৩২৫৬ টি বুথে সকাল থেকেই ছিল দীর্ঘ লাইন। প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের রায়ে ১০৯ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে আজ।
প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে সকাল ৭ টা থেকেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়। জেলায় মোতায়েন ছিল ১৭৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ৪৫০০ রাজ্য পুলিশ। তবে দুপুরের পর বেলা বাড়তেই লাভপুর, নানুর, দুবরাজপুর এবং মুরারইয়ের মতো কিছু এলাকায় সামান্য বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলেও, জেলার বাকি অংশ ছিল কার্যত শান্ত। প্রখর রোদ আর গরমকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষকে ছাতা হাতে হাসিমুখে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে।
বিকেল ৪ টো পর্যন্ত বীরভূমে প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোটদানের খবর মিলেছে। স্পর্শকাতর ১৪০৯টি বুথে কড়া নিরাপত্তা বজায় ছিল। ভোটদান শেষে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে তাঁরা খুশি। ভোটদানের নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই গণতান্ত্রিক মহোৎসবের আমেজ ছিল এবার অটুট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *