জীবিকার চাকা ও কাঠের সুবাস: করাতকলের গল্প

শম্ভুনাথ সেনঃ

বাংলার গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই করাতকল এক অতি পরিচিত দৃশ্য। আমাদের অন্দরমহলের শৌখিন আসবাবপত্র, যেমন: খাট, পালঙ্ক বা মজবুত দরজা-জানালার মূল জোগান আসে এখান থেকেই। আম, জাম, কাঁঠাল কিংবা মেহগনি ও শিশুর মতো ভারী গাছের গুঁড়ি যখন করাতকলের মেশিনে ফাড়াই করা হয়, তখন বেরিয়ে আসে আসবাব তৈরির উপযোগী কাঠ। এই কলগুলোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় বহু মানুষের জীবন-জীবিকা। তবে লোহা এবং স্ট্যান্ডলেসটিলের ব্যবহারের ফলে অনেক করাত কল হারিয়ে যাচ্ছে। বীরভূমের দুবরাজপুরের বুকে এখনো পাঁচ থেকে ছটি করাত কলের দৃশ্য পথ চলতি মানুষের চোখে পড়ে।

উল্লেখ্য, কেবল স মিলের মালিক বা শ্রমিক নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে কাঠুরে এবং দক্ষ ছুতোর মিস্ত্রি বা সূত্রধরদের রুটি-রুজি। করাতকলের সেই ঘড়ঘড় শব্দ যেন অনেক পরিবারের অন্নের সংস্থান করার গান। আধুনিকতার ভিড়েও কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর স্থায়িত্বের প্রয়োজনে এই প্রাচীন পেশাটি আজও সগৌরবে টিকে আছে, যা গ্রামবাংলার অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *