বঙ্গরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ

নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ

রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। কলকাতার ব্রিগেডে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তিনি। ঐতিহাসিক এই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে খোলা হুডের বিশেষ গাড়িতে করে ব্রিগেডের মঞ্চে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী।

২৫ বৈশাখের আবহকে গুরুত্ব দিয়েই অনুষ্ঠানের সূচনায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। পরে রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীকে শপথবাক্য পাঠ করান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য্য, সাংসদ দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্র পাল সহ বহু বিজেপি নেতা-কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরই শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামানিকরা। প্রসঙ্গত আজকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি। মঞ্চে ৯৭ বছরের প্রবীণ সমাজকর্মী ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাখনলাল সরকারকে সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই আবেগঘন মুহূর্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজমাধ্যমে। শপথ গ্রহণের পর নিজের বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলার মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কর্মসংস্থান, শিল্প ও কৃষিকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”

শুভেন্দু অধিকারী ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁকুলিতে শিশির অধিকারী ও গায়ত্রী অধিকারীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। শিশির অধিকারী একজন রাজনীতিবিদ এবং দ্বিতীয় মনমোহন সিং মন্ত্রিসভায় প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতা, যিনি বর্তমানে নন্দীগ্রামের বিধায়ক এবং ২০২১ সাল থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে হলেও পরে তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। সেই সময় তিনি পরিবহণ মন্ত্রী ও সেচমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন। এছাড়াও তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় অর্জন করে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। ভবানীপুরে তিনি পরাজিত করেন মমতা ব্যানার্জীকে। আজ, ৯ মে ২০২৬ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ গ্রহণ শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয় বরং বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বিজেপির ক্ষমতায় আসা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *