
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
সম্প্রতি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত মিলছে। কোথাও দলবদল, কোথাও আবার দলের অন্দরে অসন্তোষ— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে চর্চার আবহ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার সিউড়ি বিধানসভার অন্তর্গত রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যার ইস্তফাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা যায় রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসবাজার ওয়ার্ডের নির্বাচিত তৃণমূল সদস্যা পার্বতী সাহা তাঁর ইস্তফাপত্র স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান সরস্বতী ধীবরের হাতে জমা দেন। ইস্তফাপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরেই এই সিদ্ধান্ত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি পার্বতী সাহা।
জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৭টি আসনের মধ্যে সবক’টি আসনই দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই নিরঙ্কুশ বোর্ডে এবার এক সদস্যার ইস্তফা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক সামনে আসায় এই ইস্তফাকে ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনগর এলাকাতেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলবদলের জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বহু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি বিরোধীদের। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পার্বতী সাহা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণেই ইস্তফা দিয়েছেন, এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনের ফলাফলের পর সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই একের পর এক দলত্যাগ ও ইস্তফার ঘটনা সামনে আসছে। সব মিলিয়ে রাজনগরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এখন দেখার, পার্বতী সাহার ইস্তফা শুধুই ব্যক্তিগত কারণের ফল, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত— তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
